যশোরে প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হার ধারাবাহিক নিম্নমুখী

সালমান হাসান
যশোরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কমছে পাসের হার। এবারের পিএসসিতে যশোরের সাড়ে তিন হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। সেই সাথে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি। সংশ্লিষ্টদের দাবি এ বছর বর্ষা মৌসুমে যশোরের কয়েকটি উপজেলায় জলাদ্ধতায় স্কুল বন্ধ থাকায় পাঠদান ব্যাহত হয়। এসব উপজেলায় ফল খারাপ হওয়ার কারণে বেড়েছে ফেলের হার। আর পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মূল্যায়নে গুনগত মান বজায় রাখায় কমেছে জিপিএ-৫।
গত তিন বছরের পিএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে যশোরে ধারাবাহিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ হ্রাসের এ চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৬ সালের প্রাথমিক সমাপনীতে ৯৭ দশমিক ২৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করলেও এবার উত্তীর্ণ হয়েছে ৯১ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ গেলবারের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ০৮। গতবছর সমাপনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় ১ হাজার ২৩১ জন। এ বছর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৪৬ জনে। আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ৪ হাজার ৩৩৬ থেকে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৮ জনে। এর আগে ২০১৫ সালে যশোরে পিএসসিতে পাসের হার ছিল শতকরা ৯৯ দশমিক ৫৪। আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৬০১ জন।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি উপজেলার স্কুল বন্ধ থাকায় পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। যে কারণে এসব উপজেলার শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। ফলে জেলায় পাসের হার কমেছে। আর যথাযথভাবে গুণগত মান বজায় রেখে পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মুল্যায়নের জন্য জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে।
শনিবার দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর জেলায় রেজিস্ট্রেশন করা ৪৪ হাজার ৩৭০ জনের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৪ হাজার ৩০৭ জন। যাদের মধ্যে ৪০ হাজার ৬৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

শেয়ার