যশোরে পিএসসি ও ইবতেদায়ীতে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিএসসি) ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে যশোরে গতবারের তুলনায় ফলাফল খারাপ হয়েছে। পিএসসিতে গতবারের চেয়ে এবার ৬ দশমিক শূণ্য ৮ শতাংশ কম পাস করেছে। আর ইবতেদায়ীতে গতবারের চেয়ে ৭ দশমিক ৩৩ ভাগ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে যশোর থেকে ৪৪ হাজার ৩০১ জন শিক্ষার্থী পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৪০ হাজার ৬৫৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৮৮ জন। পিএসসিতে এবারের পাসের হার শতকরা ৯১ দশমিক ১৫। গতবার (২০১৬) পাস করেছিল ৯৭ দশমিক ২৩ ভাগ শিক্ষার্থী। এ হিসেবে এবার ৬ দশমিক শূণ্য ৮ শতাংশ কম পাস করেছে।
এদিকে, ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫ হাজার ৮৩০ জন। পাস করেছে ৫ হাজার ৩০৯ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮০ জন। ইবতেদায়ীতে শতকরা পাশের হার ৯১ দশমিক ৬৪। গতবার পাস করেছিল ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ হিসেবে এবার ৭ দশমিক ৩৩ ভাগ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে। শনিবার দুপুরে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র উঠে আসে।
সূত্রমতে, চলতি বছর যশোর সদর উপজেলা থেকে পিএসসিতে ১২ হাজার ২১১ জন অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৮৮০ জন ফেল করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬৩৪ জন। শার্শা থেকে ৫ হাজার ১৭৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের ৮৮০ জন ফেল করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮০৮ জন। মনিরামপুর থেকে ৬ হাজার ৪৭০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ফেল করেছে ২৫৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২৬ জন। বাঘারপাড়া থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৯৭৩ জন। এদের মধ্যে ফেল করেছে ১৩৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৯ জন। ঝিকরগাছা থেকে ৫ হাজার ১০৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ফেল করেছে ৩৬৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫৪ জন। চৌগাছা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ হাজার ৬১০ জন। এদের মধ্যে ফেল করেছে ৩১৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৩ জন। কেশবপুর থেকে ৩ হাজার ৯০৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ফেল করেছে ১১২৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৯ জন। অভয়নগর থেকে ৩ হাজার ৮৫২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ফেল করেছে ১৯১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬৩ জন।
অন্যদিকে, ইবতেদায়ীতে যশোর সদর থেকে ১ হাজার ২৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৩ জন ফেল করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন। শার্শা থেকে ৭৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ফেল করেছে ১০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন। মনিরামপুর থেকে ১ হাজার ১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৯৩ জন ফেল করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। বাঘারপাড়া থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩২৮ জন। ফেল করেছে ৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ জন। ঝিকরগাছা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৫৪ জন। ফেল করেছে ২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন। চৌগাছা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৯০ জন। ফেল করেছে ৬৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। কেশবপুর থেকে পরীক্ষায় অংশ ৭৫৪ জন। ফেল করেছে ৮১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। অভয়নগর থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫১৩ জন। ফেল করেছে ৫৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।
জানতে চাইলে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারী বলেন, মনিরামপুর, কেশবপুর এলাকায় বন্যায় অনেক স্কুল ও বাড়িঘরে পানি উঠে। সেখানে ক্লাস ও লেখাপড়া বিঘিœত হয়। আর এবার খাতা যথাযথ মূল্যায়ন করায় কমেছে জিপিএ-৫।

শেয়ার