প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উৎসব-উচ্ছ্বাস

দেবু মল্লিক
আজ যশোরে আসছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় চার বছর পর এই সফরে তিনি যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানের জনসভায় ভাষণ দেবেন। তার আগমনে যশোরের গ্রামে গ্রামে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু আওয়ামী লীগ বা তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষ উৎসুক হয়ে আছেন তাকে এক নজর দেখার অপেক্ষায়। অনেকে গতকালই গ্রাম থেকে চলে এসেছেন শহরে।
গত ৬ ডিসেম্বর রাতে গণভবনে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বৈঠক থেকে যশোরে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেন। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জনসভা সফল করতে তৎপর হন। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে যশোরে অনুষ্ঠিত হয় জেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি ও প্রস্তুতি সভা। অব্যাহতভাবে চলতে থাকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বার্তা জানিয়ে প্রচারণা। জেলার সর্বত্র লাগানো হয় তোরণ, বিলবোর্ড আর প্যানা সাইনবোর্ড। শহরের মোড়ে মোড়ে নয়, কয়েক গজ পর পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ শেখ রাসেলসহ আওয়ামী লীগের প্রয়াত ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে শোভা পাচ্ছে তোরণ। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বুকভরা আবেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন যশোরে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’র আগমনের।
যশোরের চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছাত্রলীগ কর্মী শাহ আলম বলেন, ‘রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছ থেকে দেখার জন্য শনিবারই আমি গ্রাম থেকে যশোরে চলে এসেছি। আজ সকালে আমার আরো কয়েকজন বন্ধু আসবে। সবাই মিলে এক সাথে যাবো উন্নয়নের নেত্রীকে দেখতে। তিনি নিশ্চিত আমাদের আবেগ আর ভালবাসার মূল্য দিবেন। যশোরের উন্নয়নে বর্তমানের মতো ভবিষ্যতেও কাজ করবেন।’
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝিকরডাঙ্গা গ্রামের মানিক কুমার মন্ডল (৪৫) বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের গর্বের নেত্রী। আগের বার তার জনসভায় গিয়েছিলাম। কিন্তু ভিড়ের কারণে দূর থেকে শুধু তার ভাষণ শুনেছি। এবার সকাল ১০টার মধ্যে যশোরে পৌঁছে যাবো। মঞ্চের সামনে গিয়ে বসবো।’ এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী যশোরের অভয়নগরে জনসভায় বক্তব্য রাখেন। সেই হিসেবে প্রায় চার বছর পর তিনি যশোরবাসীর সামনে বক্তব্য দেবেন। এর আগে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহরের বকুলতলাস্থ দেশের সবচেয়ে বড় বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল উদ্বোধন করেন। পরে যশোর ঈদগাহ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি যশোরকে দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সাথে তিনি পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যশোরে আসলে যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নতি করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার আগে ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভৈরব নদ খননের ঘোষণা দেন। ঘোষণার এক মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভৈরব খননের উদ্যোগ নিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়। পরে এই নদটি খননে একনেকে ২৭২ কোটি ৮১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যশোরের কপোতাক্ষ নদ খনন কাজ চলমান রয়েছে। উদ্বোধন করা হয়েছে যশোরের ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’। এছাড়া গত কয়েক বছরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে কয়েকশ’ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছেন।

শেয়ার