যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেতেছিলেন দূরন্ত স্মৃতির মেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ খুব সকালেই উচ্ছ্বাস, উল্লাস, দূরন্তপনা, হৈ-হুল্লোড় আর মুর্হুমুহু বাঁশির শব্দে সরগরম ছিল যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেতেছিলেন দূরন্ত স্মৃতির মেলায়। অনেকদিন পর সহপাঠীদের পেয়ে খুলে বসেছিলেন জমে থাকা কথার ডালি। রঙবেরঙের পোশাকের সাথে মাথায় বাঁধা নীল রঙের ব্যান্ড আর কাঁধে ঝুলে থাকা যশোরের ঐতিহ্যবাহী নকশি সেলাইয়ের উত্তরীয় শোভা বাড়াচ্ছিলো এই সমাবেশে। হাতে হাতে ছিল ফুল ও পুতুলের প্রতিকৃতি। পৌষের রোদ ঝলমল শীত সকালে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আর সেলফিতে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো শেয়ার করছিলেন কেউ কেউ।
তখন সকাল সাড়ে দশটা। ক্যাম্পাস থেকে ৮২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন প্রায় দেড় হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ফুল-পাখি ও পুতুলের মুখ-মুখোশে সজ্জিত এই শোভাযাত্রা শুক্রবার সকালে উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলো ঘুরে আবার স্কুল ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। দিনভর চলে স্মৃতিরোমন্থন। ক্যাম্পাস জুড়ে বসে স্মৃতির পাতা উল্টে চলেন সবাই। চলে জম্পেশ আড্ডা।
বিকেলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নাচ, গান পরিবেশনায় মেতে ওঠেন। এসময় প্রাক্তন শিক্ষার্থী মারিয়ার গানের সাথে দুলছিলেন সবাই। রাতে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় আরেকবার ঝলসে ওঠেন তারা। এসময় স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ত্রিরত্ম ব্যান্ড তারকা এলিজা তাসনিম পুতুলও গান পরিবেশনা করেন। এছাড়া ছিলেন চ্যানেল আই খ্যাত রোমান। পরে অতনু গান পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভাঙে জমকালো এই মিলনমেলা।
মিলন মেলার আয়োজন করে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্রী সমিতি। ৮২ বছর পূর্তি উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক হোসনে আরা দিলশাদ বলেন, ‘এটা শুধু পুনর্মিলনী নয়, এই আয়োজন ছিল নতুনের জন্য উজ্জীবনী শক্তি। আগামীর আয়োজনগুলো আরও বড় পরিসরে হবে এবং সেখানে নতুন পুরাতনের সম্মিলন ঘটবে বলে আশা করি।’ এই মিলনমেলাকে যারা সার্থক করতে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে তিনি সাদুবাদ জানান।

শেয়ার