বঙ্গোপসাগরে জাহাজে জাটকা নিধন ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা ইলিশ উৎপাদন

এমাদুল হক শামীম, শরণখোলা (বাগেরহাট)॥ বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের বিশেষায়িত আধুনিক ফিসিং ট্রলিং জাহাজের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে জাটকা নিধন ও আহরণকৃত মাছের মধ্যে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি সাইজের শত শত টন মৃত জাটকা ইলিশ সাগরে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ইলিশ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
সাগর থেকে ফিরে আসা জেলে ও মৎস্য আড়ৎদার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের দু’শতাধিক ও খুলনার ৬/৭টি বিশেষায়িত আধুনিক মানের ফিসিং ট্রলিং জাহাজে করে যন্ত্রের সাহায্যে ছোট-বড় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করে থাকে। মাছ ধরতে যে জাল ব্যবহার করা হয়, তা খুবই ছোট ফাঁসের। বড় মাছের সাথে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি সাইজের জাটকা ইলিশ ও বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ে ওই জালে।
শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান তালুকদার ও মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফরাজী জানান, প্রতি গোনে (মাছ শিকারের সময়) ট্রলিং জাহাজগুলি শত শত টন জাটকা ইলিশ ধরে তাদের ট্রলিং জাহাজে স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রয়োজনীয় বড় মাছ রেখে ছোট জাটকা ফেলে দিচ্ছে সাগরের পানিতে। গত কয়েক সপ্তাহে শরণখোলার জেলেরা ওই ট্রলিং জাহাজ থেকে কিছু খাদ্য সামগ্রী ও নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে বেশ কয়েকটি ফিশিং ট্রলার বোঝাই করে ৫/৬ ইঞ্চি সাইজের জাটকা ইলিশ নিয়ে এসেছে। ট্রলারগুলির মধ্যে উপজেলার রাজৈর গ্রামের জাকির হোসেনের মালিকানাধীন এফবি সাইফুল ইসলাম ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সন্নাসী এলাকার সেলিম মিয়ার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের নাম জানা গেছে। তারা আরো জানান, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার একের এক নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২২ দিন ইলিশ অবরোধ করে সফলতাও এসেছে। ফলে চলতি বছরে সাগরে ইলিশ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়েছে। হাসি ফুটেছে ট্রলার মালিক ও জেলেদের মুখে। এতে উপকূল এলাকায় জেলে পল্লী ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কিন্তু এভাবে ট্রলিং জাহাজে জাটকা ইলিশ নিধন হওয়ায় সরকারের উদ্যোগ ভেস্তে যাবে।
অপরদিকে ফিসিং ট্রলিং জাহাজগুলো অনেক সময় সাধারণ ফিসিং ট্রলারের জাল ছিড়ে নিয়ে বলে শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত সপ্তাহে ট্রলিং জাহাজ তার লক্ষাধিক টাকা মূল্যের জাল মাছ ধরা অবস্থায় ছিড়ে নিয়ে গেছে। এর প্রতিবাদ করলে ট্রলিংয়ের জেলেরা সাধারণ জেলেদের মারধর করে থাকে।
বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি সাইজের ইলিশ (জাটকা) ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এ আইনকে তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামের দু’শতাধিক ও খুলনার ৬/৭টি ফিসিং ট্রলিং জাহাজ বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে এক রকম যুদ্ধ ঘোষণা করে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম শেষ করে দিচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে পাথরঘাটার টিপু আলমের মালিকানাধীন এফবি আল্লারদান ফিশিং ট্রলার ও মহীপুরের অন্তত: ১০টি ট্রলারে আনুমানিক এক’শ মন ৪/৫ ইঞ্চি সাইজের জাটকা ওই ট্রলিং জাহাজ থেকে বিনামূল্যে নিয়ে এসেছে পাথরঘাটা বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে।
শরণখোলা উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় সরকার জানান, বিষয়টি জানার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সাগর এলাকায় জাটকা আহরণে তাদের কিছু করার থাকে না। তবে, লোকালয়ে কোন প্রকার জাটকা বিক্রি কিংবা মজুদের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক রনজিৎ পাল জানান, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার খুবই আন্তরিক। অভিযোগের বিষয়টি দেখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

শেয়ার