যশোর খাজুরা বাজারে চালু হচ্ছে সজীব জুট মিল, কর্মসংস্থান হবে সহস্রাধিক মানুষের

নাজমুস সাকিব আকাশ, (খাজুরা)॥ যশোরের খাজুরা বাজারে তরুন শিল্পপতি সজীব ইফতেখার মধু এলাকার উন্নয়নে ও পিছিয়ে পড়া নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন সজীব জুট মিলস্ লিমিটেড। এর আগে সজীব এগ্রো ফুড লিমিটেডের অটো রাইচ মিলে তিনি ব্যাপক সাফল্য ও সাড়া পেয়েছেন। সেখানেও কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে দুই শতাধিক নারী-পুরুষের। দেশের বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য জেলায় প্রতিদিন ৫০-৬০ টন চাল রপ্তানি হয় এই রাইস মিল থেকে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক বলেন, পাট একটি পরিবেশ বান্ধব পণ্য তাই সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাটজাত দ্রব্য ব্যবহার বাধ্যতা মূলক করেছে। এলাকার মানুষের প্রতি দ্বায়িত্ব ও ভালবাসা থেকেই আমার পিতা আব্দুল হাইয়ের অনুপ্রেরণায় আমি প্রত্যন্ত গ্রামে নতুন নতুন কারখানা করার স্বপ্ন দেখি। সব কলকারখানাই যদি শহর কেন্দ্রিক হয় তাহলে গ্রামের সাধারণ মানুষ সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়না। তাই আমার জন্মভূমি খাজুরা এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে বাড়ীতে থেকে কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে তারই প্রচেষ্ঠায় আমি খাজুরা বাজারে সজীব এগ্রো ফুড লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করার পর বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখি। তারই ধারাবাহিকতায় আমি সজীব জুট মিলস্ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করি। যার একটি সেক্টরের কাজ ইতি মধ্যে শেষ করেছি। ২০১৮ সালে শুরুতেই পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারবো বলে আশা করছি। জুট মিলে অফিসিয়াল ও কারখানা পর্যায়ে সহ¯্রাধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে। এলাকার লোকের সহযোগীতা পেলে আমি খাজুরা এলাকায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন করার জন্য আমার পরিচিত ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি আহবান জানাবো। তিনি আরও বলেন, আমার কারখানার সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের জীবন বীমা ব্যবস্থা করাবো। যাতে দৈব-দুর্বিপাকে বা কোন দূর্ঘটনায় যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বীমার সুবিধা গ্রহণ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে খাজুরা এলাকাকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন ভবিষ্যতে খাজুরায় একটি গার্মেন্টস্ কারখানা করার স্বপ্ন দেখি। কারণ ঢাকা শহরে কোন নারী শ্রমিক যদি নির্ধারিত বেতন ও অতিরিক্ত সময় কাজ করে তাহলে সর্বসাকুল্যে মোটামুটি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতন পায়। যার সিংহ ভাগ চলে যায় বাসা ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া ও নিজের অন্যান্য খচর বাবদ। ফলে ভবিষ্যতের জন্য বা পরিবারের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও সাধ্যে কুলায় না। কিন্তু গ্রামের নিজ বাড়ীতে থেকে যদি সমপরিমান মজুরী পায় তাহলে প্রায় সম্পূর্ণ টাকা টায় সে পরিবারের জন্য ব্যয় করতে পারে। এদিকে সূত্রমতে দেশের বৃহত্তম পাটের মোকাম যশোরের খাজুরা বাজার। এই মোকামে ৩০০ আড়ৎ ঘর রয়েছে। তাই খাজুরা বাজারের আড়ৎ পট্টির ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশার আলো দেখছে। দূর-দূরান্তের বিভিন্ন মোকামে অজানা অচেনা ব্যক্তির কাছে পাট বিক্রি করে অনেকে টাকা আদায় করতে না পেরে সর্বশান্ত হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে খাজুরা বাজারেই সজীব এগ্রো ফুড কারখানায় যেমন, বিপুল পরিমান ধানের চাহিদা হয়েছে তেমনি জুট মিলেও প্রতি বছর লাখ লাখ টন পাটের চাহিদা সৃষ্টি হবে। ফলে এলাকার পাট চাষী ও পাট ব্যবসায়ী আড়ৎদার গণ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন বলে তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

শেয়ার