প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে আসছেন ৩১ ডিসেম্বর সর্বত্র সাজসাজ রব, প্রচারণায় মুখর শহর

দেবু মল্লিক
আর একদিন বাদেই যশোরে আসছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩১ ডিসেম্বর রোববার এই সফরে তিনি বিমানবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর দুপুরে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানের জনসভায় ভাষণ দেবেন। তার আগমন উপলক্ষে জেলার সর্বত্র চলছে কর্মতৎপরতা আর উৎসবের আমেজ। চলছে মাইকিং; প্রচার মিছিল। গতকালও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভাট্টাচার্য্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারসহ নেতৃবৃন্দ ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন প্রস্তুতির খুঁটিনাটি পরখ করে নিচ্ছেন। আর তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উৎসুক হয়ে আছেন সেই মাহেন্দ্র ক্ষণের।
গত ৬ ডিসেম্বর রাতে গণভবনে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার এক বৈঠক থেকে যশোরে একটি জনসভা করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে জেলা আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ শুরু করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঞ্চ তৈরিসহ যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে জনসভার জন্য উপযোগী করা হয়। গত সপ্তাহখানেক ধরে জেলা শহরসহ উপজেলা পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বার্তা জানিয়ে চলছে প্রচারণা। জেলার সর্বত্র ছেয়ে গেছে তোরণ, বিলবোর্ড আর প্যানা সাইনে। কিন্তু গত বুধবার দুপুরে জনসভাস্থল পরিবর্তন করে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান করা হয়েছে। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে ঈদগাহ ময়দানে মঞ্চ তৈরির কাজ। রাত দিন সমান তালে ময়দানটিকে জনসভার উপযোগী করতে কাজ চলছে। যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র গালিব গাজী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কখনো সামনা সামনি দেখার সুযোগ হয়নি। টিভিতে তাকে দেখিছি। তাকে এবার সরাসরি দেখতে পাবো ভাবতে ভাল লাগছে। এজন্য আগের থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। গ্রামের বাড়ি কালীগঞ্জ থেকেও আমার অনেক বন্ধু আসবে। তাদের সাথে নিয়ে একত্রে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যাবো।’
যশোর সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাহানাজ পারভীন রিমকি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে আমি একজন নারী হিসেবে গর্বিত। তার কর্মস্পৃহা থেকে আমরা অনুপ্রাণিত হয়। তাকে সরাসরি দেখবো, তার ভাষণ শুনবো এটা আমার অনেক দিনের আশা। সেই আশা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পূরণ হবে।’


সর্বশেষ ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী যশোরের অভয়নগরে জনসভায় বক্তব্য রাখেন। সেই হিসেবে প্রায় চার বছর পর তিনি যশোরবাসীর সামনে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। যশোর ঈদগাহ ময়দানের জনসভাটি সফল করতে গত ১৩ ডিসেম্বর প্রস্তুতি সভা করে জেলা আওয়ামী লীগ। যশোর সিসিটিএস মিলনায়তনে ওই সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) আব্দুর রহমান এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে জেলা ছাত্রলীগ, জেলা যুবলীগ, জেলা যুব মহিলা লীগ, জেলা মহিলা লীগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব সভাতেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে উপজেলা পর্যায়েও।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অভয়নগরের মালোপাড়ায় নির্যাতিতদের দেখতে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে আসেন। তখন তিনি অভয়নগরের শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক জনসভায় ভাষণ দেন। এর আগে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহরের বকুলতলাস্থ দেশের সবচেয়ে বড় বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল উদ্বোধন করে। পরে যশোর ঈদগাহ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি যশোরকে দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সাথে তিনি পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যশোরে আসলে পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভৈরব নদ খননের ঘোষণা দেন। ঘোষণার এক মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভৈরব খননের উদ্যোগ নিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়। পরে এই নদটি খননে একনেকে ২৭২ কোটি ৮১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যশোরের কপোতাক্ষ নদ খনন কাজ চলমান রয়েছে। উদ্বোধন করা হয়েছে যশোরের ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’। এছাড়া গত কয়েক বছরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে কয়েকশ’ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছেন।

শেয়ার