উপজেলায় না থাকলে চিকিৎসকদের চাকরি ছাড়তে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ তৃণমূলে কাজ করতে না চাওয়া সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের চাকরি ছেড়ে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উপজেলা পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকরা কর্মস্থলে না থেকে সপ্তাহের বেশির ভাগ ঢাকায় পার করেন বলে অভিযোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এভাবে যদি কেউ চলে আসে, তাহলে তো তার চাকরি করার দরকার নাই। ঢাকায় বসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলেই তো অনেক টাকা পাবে। দয়া করে তারা বিদায় নিয়ে বাড়ি চলে যাক, আমরা নতুন নিয়োগ দেব।”
সরকারি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উপজেলা পর্যায়ে কাজ করতে না চাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে সংসদে বহুবার সদস্যদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বুলেন্স বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, সচিব মো. সিরাজুল হক খান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
তাদের সবার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্য সেবা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। আপনাদের আরো সচেতন হতে হবে। আমাদের ডাক্তাররা যেন (কর্মস্থলে) থাকে।
“যেই আমরা পাঠাচ্ছি উপজেলায়- সেখানে না থেকেই … সরকারি চাকরি হলেই এই সমস্যাটা হয়; যেই আমরা দিয়ে দিচ্ছি- অমনি যে কোনোভাবে কায়দা-টায়দা করে ঢাকায় চলে এসে বসে থাকবে।”
উপজেলায় আবাসন সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটা সমস্যা আমি খুঁজে বের করেছি। সেটা হচ্ছে- তাদের আবাসিক সমস্যাটা। অনেক ইয়ং ডাক্তাররা যায়, এখন মেয়েরা যায়। কিন্তু গেলে পরে.. একটা উপজেলায় তাদের থাকার জায়গা নাই।”
এই সমস্যা সমাধানে উপজেলাগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং যদি করে দেয়.. অনেক সরকারি অফিসার তারা যেয়ে ওখানে ভাড়া নিয়ে থাকতে পারবে।”
প্রত্যেক জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী।
মেডিকেল কলেজে শিক্ষার মান যথাযথ রাখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মেডিকেল কলেজগুলো আমরা করে দিচ্ছি, এটার মানটা আমাদের বজায় রাখতে হবে- যে কী চিকিৎসা হচ্ছে? রোগী মারা ডাক্তার হচ্ছে, না রোগী বাঁচানোর ডাক্তার হচ্ছে। এটা একটু ভালো করে দেখতে হবে।”
“অনেকগুলো মেডিকেল কলেজ আমরা দিয়েছি। আর যেখানে যেখানে ক্যান্টনমেন্ট আছে, সেখানে অলরেডি পাঁচটা মেডিকেল কলেজ করার পারমিশন আমরা দিয়েছি। বলেছি যে, সব জায়গায় আমরা দেব।”
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজকে বাংলাদেশে যতগুলো ইনস্টিটিউট করা হচ্ছে … আমি অতো নাম বলব না। ৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রতিটি ইনস্টিটিউটের শুরুটা কিন্তু আমার হাত থেকে। আমাদের এত জনসংখ্যা, তাদের চিকিৎসা দিতে গেলে লোকবল তৈরি করা এবং বিশেষায়িতৃ বিশেষ করে বিশেষায়িত মানুষজনের প্রয়োজন খুব বেশি।”
প্রত্যেকটা বিভাগীয় শহরে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, “বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট করে দিচ্ছি, এতে বিশেষজ্ঞ থাকতে পারে এবং বিশেষজ্ঞ তৈরি হচ্ছে।”

শেয়ার