মোবাইল কোর্টে আইনজীবীকে সাজা নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন সেই এসি ল্যান্ড

সমাজের কথা ডেস্ক॥ কক্ষে বসা নিয়ে বিতণ্ডার জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জ্যেষ্ঠ এক আইনজীবীকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোদা রানী রায়।
বুধবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের অবকাশকালীন হাই কোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চান তিনি।
তবে মৌখিক ক্ষমা প্রর্থনায় আদালত উষ্মা প্রকাশ করে লিখিতভাবে ক্ষমার আবেদন করার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য রাখে।
আদালতে এসি ল্যান্ডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুন মাহবুব। এছাড়া ঘটনাটি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী সৈয়দ মহিবুল কবির ও আইনজীবী কাজী হেলাল উদ্দিনও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
পরে সৈয়দ মহিবুল কবির বলেন, “এসি ল্যান্ড বিরোদা রানী আদালতে হাজির হয়ে মৌখিকভাবে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত আগামীকাল হলফনামা আকারে তার বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।”
গত ১২ ডিসেম্বর সকালে একটি নামজারির মামলায় শুনানি করতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এসি ল্যান্ড বিরোদা রানীর কক্ষে বসা নিয়ে বাগবিতন্ডা হয় আইনজীবী নিরোদ বিহারী রায়ের সঙ্গে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই আইনজীবীকে ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক দিনের করাদন্ড দেন বিরোদা রানী রায়।

সাজা দেওয়ার সময় এসি ল্যান্ড ‘আমি আমার ক্ষমতা দেখালাম, পারলে আপনি আপনার ক্ষমতা দেখান’ মন্তব্য করেন বলে ভুক্তভোগী ওই আইনজীবীর অভিযোগ। ওই ঘটনার পর বিরোদা রানীকে ভুরুঙ্গামারীতে বদলি করা হয়।
ঘটনাটি ১৪ ডিসেম্বর একটি দৈনিকে প্রকাশিত হলে ১৭ ডিসেম্বর তা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির ও কাজী হেলাল উদ্দিন। ওইদিনই হাই কোর্ট বিরোদা রানী রায়কে ২৭ ডিসেম্বর হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলে।
আইনজীবী নিরোদ বাহারী রায়কে সাজা দেওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসি ল্যান্ড বিরোদা রানী হজির হন আদালতে।
বিচারকরা ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বিরোদা রানী বলেন, “আমার কক্ষের জায়গা সীমিত। বসার জায়গা ছিল না। তিনটি মাত্র চেয়ার আমার কক্ষে। তখন অন্য তিনজন বসা ছিলেন। তাই উনাকে বাইরে যেতে বলেছি।”
তার কক্ষটি কত বর্গফুট আদালত তা জানতে চাইলে বিরোদা রানী তখন নিরুত্তর থাকেন।
তখন আদালত বলে, “ক্ষমতা থাকলেই তার অপব্যবহার করতে পারেন না। ক্ষমতা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিৎ। একজন আইনজীবীকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো আদালত এভাবে সাজা দিতে পারে না।”
আদালত বলে, “শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রে না। সকল ক্ষেত্রেই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ হচ্ছে। ক্ষমতা দেওয়া হয় সঠিক প্রয়োগের জন্য। কিন্তু তার অপপ্রয়োগের ব্যাপারে ঝোঁক বেশি দেখা যায়।”
এসময় বিরোদা রানী বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি ভুল হয়ে থাকে, যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমি ক্ষমা চাই।”
আদালত তখন বিরোদা রানীকে হলফনামা আকারে নিজের বক্তব্য এবং ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে বলে বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য রাখে।

শেয়ার