আজ থেকে যশোরে ৩ দিনের বিশ্ব ইজতেমা অংশ নিচ্ছে দেশি-বিদেশি লাখো মুসল্লি

এস হাসমী সাজু
আজ (বৃহস্পতিবার) ফজরের নামাজের পর যশোরের উপশহরে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয়বারের মতো অঞ্চল ভিত্তিক বিশ্ব ইজতেমা। ঢাকা কাকরাইল মসজিদের পেশ ঈমাম মুফতি আব্দুল বারেক আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে এ ইজতেমা শুরু হবে। এতে কাকরাইল মসজিদের ১৬ জন ঈমাম তিনদিন পর্যায়ক্রমে বয়ান দিবেন। ইজতেমায় অংশ নিতে গতকাল পুরোদমে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে মুসল্লিরা দল বেধে, গাড়ি নিয়ে মাঠে আসেন। দেশের মুসল্লিদের সথে ইজতেমায় ভারত, পাকিস্থান, ইন্দনেশিয়াসহ বিভিন্ন তাবলীগ জামায়াতের সাথীরা অংশ নিচ্ছে।
এদিকে ইজতেমাকে ঘিরে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একজন সার্কেল এসপির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে থাকবে। এ বাদেও সাদা পোষাকে বিদেশি মেহমানের তাবু ও খিত্তায় অবস্থান করে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। ২৪টি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে শাপলা কির্ন্ডার গার্ডেন স্কুল ভবনে। আগামী শনিবার (৩০ডিসেম্বর) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিনদিনের ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
বুধবার দুপুরে ইজতেমায় অংশ নিতে আসা যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মুসল্লি আনিছুর রহমান জানান, মাঠে মঙ্গলবার বিকালে এসেছি। এখানে আসার পর থেকে ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো লাগছে। ইছালি থেকে আসা মুসল্লি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইসলামি ও আল্লাহুর কথা শুনার জন্য অফিস ছুটি নিয়ে ইজতেমায় অংশ নিচ্ছি। ভারতের হায়দ্রবাদের তাবলীগ জামাতের মুরব্বি জুলফি নেওয়াজ জানিয়েছেন, তাবলীগের দাওয়াত প্রচার ও আল্লাহুর পথে মানুষকে দাওয়াত দিতে তিন মাসের জামাতে মার্কাসে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে আঞ্চিলিক ইজতেমার কথা শুনে মাঠে শামিল হয়েছি সোয়াব পাওয়ার আসা নিয়ে।
অপর এক মুসল্লি এখলাছুর রহমান জানান, চল্লিশ জনের মধ্যে একজন আল্লাহর ওলি থাকেন। তার বদৌলতে সকলের দোয়া কবুল হয়। ফলে ইজতেমায় লাখো মুসল্লি উপস্থিত থাকবেন। ফলে আল্লাহ কখন কার বদৌলতে দোয়া কবুল করেন বলা যায় না। আমরা তো গোনাহাগার বান্দা এর মাধ্যমে যদি কিছু গোনাহ মাফ করেন আল্লাহ এ জন্য ইজতেমায় আসা।
এদিকে ইজতেমাকে ঘিরে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার বিকালে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন সিকদার ব্রিফিং করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহম্মাদ আনছার উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) নাঈমুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) জুয়েল ইমরান, (মণিরামপুর সার্কেল) জামাল আল নাছের, ছয়রুদ্দিন আহম্মেদ এবং খুলনা মেট্রোপলিটনের সহকারী পলিশ সুপার ভাস্কর সাহা।
উল্লেখ্য যে, যশোরে তিন দিনের আঞ্চলিক ইজতেমাকে ঘিরে চলতি মাস থেকে মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। মুসল্লিদের জন্য এক হাজারেরও বেশি বাথরুম, বিশুদ্ধ পানির ট্যাংসহ ২৬টি টিউবয়েল এবং উপশহর পার্ক সংলগ্ন পুকুরে, ইউনিয়ন পরিষদের সামনেসহ ৮টি সুবিধামত স্থানে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য ওজু খানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে ইজতেমা আরেকজন জিম্মাদার আনছার আলী জানান, ইজতেমায় আগত অসুস্থ্য মুসল্লিদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে এ্যাম্বুলেন্সের। এছাড়াও ইজতেমার এলাকায় মুসল্লিদের পাঁচটি ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
এলাকার মুসল্লি সৈয়দ তানভীর হাসমী জানান, ২০১৫ সালের তুলনায় এবার উপশহরের দ্বিতীয়বারের মত ইজতেমা। ভালভাবে করতে নানা পরিকল্পনায় মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে মুসল্লিদের কোন সমস্যা হবে না।
উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু জানান, ‘আল্লাহ্র ইবাদতের জন্য বিপুল সংখ্যক মেহমান উপশহর এলাকায় আসতে শুরু করেছে। তাদের সেবায় পরিষদের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নসহ বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনা করা হচ্ছে।’

শেয়ার