শৈলকূপায় শোভাযাত্রা শেষে কৃষকের বিজয় উৎসব রূপ নেয় মিলন মেলায়

সাজ্জাদ আহমেদ, ঝিনাইদহ ॥ মঙ্গলবার দিনব্যাপী ঝিনাইদহের শৈলকুপার ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত কৃষকের বিজয় উৎসব রুপ নিয়েছিল মিলন মেলায়। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ও কৃষিপণ্যের লাভজনক মূল্য পেতে সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তার দাবিতে উন্নয়ন ধারার সহযোগিতায় গড়ে উঠা স্বাধীন কৃষক সংগঠন এ উৎসবের আয়োজন করে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে এদেশের গ্রামীণ কৃষক জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অবদান রয়েছে উল্লেখ করে আয়োজকরা বলেন সেই মুল্যায়ন কোন সরকারই করেনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠকরা বলেন দুঃখজনক হলেও সত্য বিজয় দিবস কেবল শহুরে অনুষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিজয় দিবসে তেমনভাবে উৎসবই হয় না। দেশ স্বাধীনের গত ৪৬ বছরের মধ্যে কোন সরকার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি বলেও মন্তব্য করে আয়োজক কমিটির নেৃতৃবৃন্দ।
এরকম প্রেক্ষাপটে দিবস উদ্যাপনের জন্য শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ও ফুলহরি ইউনিয়ন স্বাধীন কৃষক সংগঠন দিনব্যাপী বিস্তর কর্মসূচি গ্রহণ করে কৃষকের বিজয় উৎসব নামে। এলাকার সাধারণ কৃষান-কৃষাণী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, চেয়্যারম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে ভাটই বাজার হতে এক বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয় এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া এলাকার সংগঠিত কৃষক পরিবারের নারীদের চেয়ার বদল ও পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা, পিঠা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সকল ইভেন্ট শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুধসর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সায়ুব আলী জোয়ার্দ্দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন ধারার পিএফএসএসএ প্রকল্পের সমন্বয়কারী হায়দার আলী, সাংবাদিক সাজ্জাদ আহমেদ, স¦াধীন কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খুরশীদ আলম রুবায়েত, স¦াধীন কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, সোনিয়া আহমেদ, ফুলহরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিনুর রহমান বিপুল, উন্নয়ন ধারার সহযোগী সমন্বয়কারী (ডক্যুমেন্টেশন এ- কমিউনিকেশন) কৃষ্ণ দাস সাহা,নুরুল ইসলাম, মোবারেক মৃধা,রবিউল ইসলাম।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফুলহরি ইউনিয়ন স্বাধীন কৃষক সংগঠন সভাপতি লিপিল কুমার বিশ্বাস। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। সন্ধায় কৃষক পরিবারের জীবনযাত্রার আলেখ্যে রচিত নাটক ‘মেহেরজানের স্বপ্ন’ মঞ্চায়িত করে লোকথিয়েটার বাংলাদেশ, ঝিনাইদহ এবং সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিজয় উৎসবের সমাপনী হয়।

শেয়ার