যশোরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হাসপাতাল থেকে ‘পালিয়ে গেছে’ চালক ও হেলপার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কেমিক্যালবাহী কাভার্ড ভ্যানের চালক হুমায়ুন কবীর সুমন ও হেলপার আশরাফুল ইসলাম গোপনে চলে গেছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না নিয়ে মঙ্গলবার তারা পালিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সোমবার রাতে শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ায় তাদের কেমিক্যালবাহী কাভার্ড ভ্যানটি ঝালাই করার সময় ভয়াবহ অগ্নিকা- ঘটেছিল। এতে কারখানার মালিক পিকুল ও তার ভাই রুহুল আমিন পুড়ে মারা যায়। আহত হয় কাভার্ড ভ্যানের চালক হুমায়ুন কবীর সুমন ও হেলপার আশরাফুল ইসলাম। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হওয়ার খবরে তারা হাসপাতাল থেকে গোপনে চলে গেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তবে পুলিশ বলছে, যেহেতু মামলায় এখনও চালক ও হেলপারকে আসামি করা হয়নি, তাই পালিয়ে গেছে সেটা বলা ঠিক হবে না।
সূত্র মতে, সোমবার বিকেলে বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে কেমিক্যালবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান। সদর উপজেলার বড় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হুমায়ুন কবীর সুমন নিজেই কাভার্ড ভ্যানটির মালিক ও চালক। আর শেখহাটির আশরাফুল ইসলাম সেই গাড়ির হেলপার। পথিমধ্যে গাড়িটিতে সমস্যা দেখা দেয়। এ জন্য তারা প্রথমে ঝিকরগাছায় কয়েকটি ওয়ার্কশপে ঝালাই করার জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু কোন ওয়ার্কশপই ঝালাই করে দিতে রাজি হয়নি। এরপর তারা সন্ধ্যার একটু আগে চলে আসে যশোরের উপশহরে। সেখানে আজহারুল ইসলাম পিকলুর ওয়ার্কশপে রাখে। রাত ৯টার দিকে পিকুল ও তার ভাই রুহুল আমিন ঝালাই করা শুরু করে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, কাভার্ড ভ্যানে কেমিক্যাল ছিল সেটাও গোপন রাখা হয়েছিল। এ অবস্থায় তারা দুই ভাই গাড়িটি মেরামতের কাজ করছিল। আর এতেই ঘটে দুর্ঘটনা। অগ্নিকা-ে পুড়ে মারা যায় দুই ভাই। সামান্য আহত হয় গাড়ির চালক ও হেলপার। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এ খবরে মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে গোপনে চলে গেছে চালক হুমায়ুন কবীর সুমন ও হেলপার আশরাফুল ইসলাম। এ মামলায় তারা আসামি হতে পারে এমন চিন্তা থেকে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেছে বলে অনেকের ধারণা।
এব্যাপারে জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আজমল হুদা বলেন, অগ্নিকা-ের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি করেছে প্রশাসন। তদন্ত না করে কারো বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। এজন্য চালক ও হেলপারকে তারা আটক দেখায়নি। তারা হাসপাতাল থেকে চলে গেছে কিনা সেটা পুলিশের জানার বিষয় না। তিনি আরও বলেন, চালক ও হেলপার সামান্য আহত হয়েছিল। এজন্য হয়ত হাসপাতাল থেকে বাড়ি গেছে।

শেয়ার