টেকসই উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রয়েছে নিজস্ব দর্শন: ওমর ফারুক চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব উন্নয়ন দর্শন রয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য জনগণকে ক্ষমতায়ন করার পক্ষে তিনি। এজন্য অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মানুষের বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। আর এই দর্শন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরের জন্য তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তার ফলও এসেছে। বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ।’
আগামী ৩১ ডিসেম্বর যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফল করার লক্ষ্যে গতকাল যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে যুবলীগের খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি মেধাবী যুবকদের কথা চিন্তা করে সরকারি চাকরির বয়স সীমা তুলে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রতিনিধি সভায় জিয়াউর রহমান, হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি জিয়াউর রহমানের আমলে ভোটের নামে ছিলো ‘হ্যা আর না’ ভোট। তখন হ্যাঁ তে ১১৩ ভোট আর না তে শূন্য ভোট। জিয়াউর রহমানের আমলে জনগণের ভোটের অধিকার ছিলো-১০টি হুন্ডা, ২০টি গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা। এরশাদ সাহেবের মিডিয়া ক্যু। রাতের অন্ধকারে ডিক্লিয়ার। জাতীয় পার্টি জয়যুক্ত। রাত ১২ টার পরে মিডিয়ার মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা। আর বেগম খালেদা জিয়ার আমলে সোয়া কোটি জীন পরী নেমে ভুয়া ভোটার। আজিজ মার্কা নির্বাচন। এই হলো বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচন। আর এখন অলি গোলি মে শোর হে, খালেদা জিয়া চোর হে। অলি গোলি মে আবাদ হে, তারেক বেটা চোর হে।’
প্রতিনিধি সভায় প্রধান বক্তা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আগামী ৩১ ডিসেম্বর যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা হবে যুব সমাজের জনসভা। তাই এই জনসভা সফল করতে যুবলীগের নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ওই দিন ১২ টার মধ্যে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সুশৃংখলভাবে, সুসজ্জিত হয়ে জনসভাস্থল পরিপূর্ণ করতে হবে। যুবলীগ অতীতে আন্দোলন সংগ্রামে রক্ত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জন করেছে। যশোরের জনসভায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিদান দিতে হবে।’


আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্রের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যশোরের জনসভা থেকে যার যাত্রা শুরু হবে। শ্লোগান উঠবে নৌকা, শেখ হাসিনা আর বঙ্গবন্ধুর নামে। যার ঢেউ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। তাই যশোরের জনসভা সফল করতে আমাদের সবাইকে মাঠে নামতে হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসছেন। এটা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার জনসভা সফল করতে আমাদের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বগুনে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। দেশকে তিনি বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ আনার পাশাপাশি তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করে না সেই যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। ভবিষ্যতে তার নেতৃত্বেই এদেশে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের জনসভা সফল করে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়ে দেবো আসন্ন নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে তার নৌকা প্রতীক জয়ী হবে।’
যশোর জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর পরিচালনায় প্রতিনিধি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহাবুবুর রহমান হিরণ, শহীদ সেরনিয়াবাদ, ফারুক হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) আসাদুল হক আসাদ, ইমরান হোসেন খান, ফজলুল হক আতিক, দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিছুর রহমান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, উপ-প্রকাশনা সম্পাদক বাবলুর রহমান, উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শ্যামল কুমার রায়, ঢাকা মহানগর (উত্তর) যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন খাঁন, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঈনুদ্দিন খান, কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সদস্য মৃণাল কান্তি জোয়ারদার, ঝিনাইদহ জেলা যুবলীগের সভাপতি আশফাক মাহমুদ জয়, যশোর জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজহার হোসেন স্বপন, সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান, যশোর জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শাহজাহান কবির শিপলু, বর্তমান সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল ইসলাম জিসান প্রমুখ।

শেয়ার