শেষ হল যশোর জিলা স্কুলের পুনর্মিলনী উৎসব
নবীন-প্রবীণের স্মৃতির পাতায় যুক্ত হলো আরেক নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পরনে সবার গাড় নীল রঙ টি-শার্ট। মাথায় ডিপ ব্লু কালারের ক্যাপ। টিয়া রঙের ফিতায় গলায় ঝুলছে আইডেনটিটি কার্ড। স্কুল ক্যাম্পাসে নীল টিশার্টের উপচানো ভিড়। হাতে হাতে সবার বাঘ, সিংহ, পুতুলের প্রতিকৃতি। পৌষের রোদ ঝলমল শীত সকালে মুর্হুমুহু বাঁশির শব্দে সরগরম যশোর জিলা স্কুল ক্যাম্পাস। চারপাশে উচ্ছ্বাস উল্লাস দূরন্তপনা আর হৈ-হুল্লোর। লাইভে আর সেলফি স্টিকে ছবি তুলে পোস্ট দিয়ে ফেসবুকে এ আনন্দঘন মুহূর্ত শেয়ার করেন কেউ কেউ।
তখন সকাল সাড়ে দশটা। ক্যাম্পাস থেকে বের হল বাঘ, সিংহ আর পুতুলের মুখ-মুখোশে সজ্জিত যশোর জিলা স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তির বর্নিল শোভাযাত্রা। শহরের পথে পথে ১৮০ পূর্তির আনন্দে মাতলেন যশোর জিলা স্কুলের দুই হাজারের বেশি নবীন প্রবীণ। শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সূচনা হয় পুনর্মিলনীর সমাপনী দিন। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্কুল ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয় শোভাযাত্রা। দিনভর চলে স্মৃতিচারণ-স্মৃতিরোমন্থন। হারানো দিন হাতরে খোলেন স্মৃতির ঝাঁপি। নষ্টালজিয়ায় ভেসে যায় স্কুল ক্যাম্পাস। স্মৃতিবিধুর ক্যাম্পাস জুড়ে বসে জম্পেশ আড্ডা। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভাঙে দু’দিনের মিলনমেলা। দুই দিনের হাসি-আনন্দের নতুন আরেকটি স্মৃতি বুকে নিয়ে ফেরেন যশোর জিলা স্কুলের নবীন প্রবীণরা। গতকাল উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় শামিল হন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল হালিম, আব্দুল মতিন, মহিউদ্দিন আহমেদ এবং বর্তমান শিক্ষক শফিয়ার রহমান, জামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘নবীন প্রবীণের এই মেলা এই স্কুলে আগামী প্রজন্মকে ভালো কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করবে।’ তিনি ও অন্যান্যরা শিক্ষকতাকালীন মজার স্মৃতি তুলে ধরেন।
বিকেলে স্কুলের বর্তমান কৃতি ছাত্রদেরকে কবি মনিরুজ্জামান স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়। মেধার ভিত্তিতে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের ১০ জন দশম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকারকারীকে এই পদক প্রদান করা হয়। এ পর্বের অতিথি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র কবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, মেজর জামিল ডি আহসান, জিলা স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তসদিকুর রহমান, ঢাকা সভাপতি এ এম জাকারিয়া মিলন, সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক, উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহীন চৌধুরী, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক একেএম গোলাম আযম প্রমুখ কৃতি ছাত্রদের হাতে পদক তুলে দেন।

শেয়ার