এমপি নাবিলের ক্যাডার ম্যানসেলের নেতৃত্বে দোকানদারকে গুলি করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের এমপি নাবিলের শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেলের নেতৃত্বে দিবালোকে গুলি করে টিপু সুলতান (২২) নামে এক সিঙাড়া-পুরির দোকানদারকে খুন করেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষের নুরুন্নবী সোহেল নামে এক যুবককে খুন করতে এসে তাদের ছোঁড়া গুলি টিপু সুলতানের গায়ে বিদ্ধ হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের টিবি ক্লিনিক মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত টিপু সুলতান একই এলাকার সুভাষ চন্দ্রের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
হাসপাতালে নিহতের মা ডালিয়া বেগম জানিয়েছেন, তার একমাত্র ছেলে টিপু সুলতান টিবি ক্লিনিক মোড়ে একটি সিঙাড়া-পুরির দোকান দিয়ে বেচাকেনা করত। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার সকালে দোকানটি খুলছিল টিপু। সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ম্যানসেলের নেতৃত্বে রেলরোড ফুড গোডাউন এলাকার রবির ছেলে শুভ, ষষ্ঠিতলা নিত্যঘোষের ছেলে শিশির ঘোষ, শংকরপুর পশু হাসপাতাল এলাকার কাজী তৌহিদের ছেলে ভাইপো রাকিব, গোলপাতা মসজিদ এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে সাহেদ হোসেন নয়ন ওরফে হিটার নয়ন, রেলস্টেশন রাবেয়া মঞ্জিলের আলা মিয়ার ছেলে আরিফ, রায়পাড়া তুলোতলার খোকনের ছেলে আলামিন, ষষ্ঠীতলার হাবুর ছেলে নান্টু, সিটি কলেজপাড়ার বদর উদ্দিনের ছেলে সাইদুর রহমান ওরফে ডিম রিপন, চাঁচড়া রায়পাড়ার ইসরাইল ড্রাইভারের ছেলে সজল, পুলিশ লাইন টালিখোলার মফজেলের ছেলে হাসান এবং রেলস্টেশন এলাকার রবিউলসহ আরো ৪/৫জন সন্ত্রাসী কয়েকটি মোটরসাইকেলে টিপু সুলতানের দোকানের সামনে আসে। ওই দোকানে এলাকার মানিকের ছেলে নুরুন্নবী সোহেল নাস্তা করার জন্য গিয়েছিল। এসময় ম্যানসেলের হুকুমে সোহেলকে লক্ষ্য করে অবৈধ পিস্তল দিয়ে গুলি ছোঁড়ে শুভ। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল শিশির ঘোষ। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ওই গুলি টিপু সুলতানের বুকে বিদ্ধ হয়। সাথে সাথে টিপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার কল্লোল কুমার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এখবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ভয়ে আতংকিত হয়ে চারিদিকে ছুটাছুটি করতে থাকে। বন্ধ হয়ে যায় ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।


এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন সিকদার, নাইমুর রহমান, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) আলমগীর হোসেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন।
সূত্র মতে, এদিন সকাল ১০টার দিকে সোহেলকে হত্যার জন্য সন্ত্রাসীদের নিয়ে ম্যানসেল ষষ্ঠীতলার লোকমানের পরিত্যক্ত মেহগনি বাগানে গোপন বৈঠক করে। এরপরই ম্যানসেলের নেতৃত্বে সেখানে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা শুধু টিপুকে খুন করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। এদিন দুপুরের দিকে ষষ্ঠীতলার ফরিদ আহম্মেদের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তার ছেলে আরিফকে মারপিট করে বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
এদিন বিকেলে নিহত টিপুর লাশ নিয়ে খুনিদের আটকের দাবিতে থানা ঘেরাও এবং শহরে মিছিল করেছে তার স্বজনসহ এলাকাবাসী। এর আগে ওই লাশ নিয়ে প্রেসক্লাব যশোরের গেটে রেখে বেশ কিছু সময় মুজিব সড়ক অবরোধ করে রেখে স্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ মানুষ।
যশোর কোতোয়ালি পুলিশের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, টিপুর খুনিদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি বা কাউকে আটক করা হয়নি।
অপরদিকে, যশোর সদরের এমপি কাজী নাবিল আহম্মেদের অর্থে ষষ্ঠীতলার আলমাস হোসেনের ছেলে মেহেবুব আলম ম্যানসেল বিশাল একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুললেও পুলিশ তাকে কিছুই বলছে না। অথচ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রতিষ্ঠিত করতে ম্যানসেল অবৈধ অস্ত্র-গুলি, বোমাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মজুত রেখেছে। তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের সময় পোষ্য সন্ত্রাসীদের নিয়ে আতংক সৃষ্টি করতে করতে বের হয়। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। অথচ দিনের পর দিন এলাকায় খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি ও বোমাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে আসছে। মাস দেড়েক আগে ওই বাহিনীর সদস্যরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমনকে গুলি করে হত্যা করে। নিজেদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রতিষ্ঠিত করতে মাঝে মধ্যে হত্যা, বোমাবাজি ও গুলি করে মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করাই ম্যানসেলের প্রধান কাজ।

শেয়ার