আমরণ অনশনে প্রাথমিক শিক্ষকরা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বেতনধাপে বৈষম্য কমানোর দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আমরণ অনশন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শনিবার সকাল ১০টায় ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের’ উদ্যাগে এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। এতে মহাজোটের অধীনে থাকা ১০টি সংগঠনের শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমানে তাদের গ্রেড ১৪ তম রয়েছে। তারা ১১ তম গ্রেডে উন্নীতর জন্য আজকের এ আমরণ অনশন। প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১০ ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল মোকাব্বের দাবি করেন, ঢাকায় লক্ষাধিক শিক্ষক এসেছেন। এখানে অনশনে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজারের মতো।
তিনি বলেন, ‘এ দাবি আদায় বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়া গেলে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিচের গ্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করতে হবে। প্রধান শিক্ষকরা যদি দশম গ্রেড হয় আমরা এগারোতে থাকব। ওরা এগারো হলে আমরা বারোতে। অথচ আমাদের বেতন গ্রেডে ফারাক রয়েছে।’
অনশনকারী শিক্ষকরা জানান, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ।
এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০) বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০) বেতন চান।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার হাওলাদার অনশনে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলবে।

শেয়ার