বর্ণিল উৎসবে রঙিন যশোর জিলা স্কুল ক্যাম্পাস

তুষার আহসান
পৌষের পড়ন্ত বিকেল। যশোর জিলা স্কুলের আঙিনা জুড়ে উৎসবের আমেজ। ১৮০ বছর পূর্তির আনন্দে হৈ-হুল্লোর, খুনসুটি, উচ্ছাস আর উল্লাসে মুখর রতœগর্ভা বিদ্যাপীঠটির ক্যাম্পাস। আগেই জমকালো সাঁজে সাজানো স্কুল আঙিনায় হাজারো নবীন প্রবীণের মিলন মেলা। এমন পরিবেশে রঙবেরঙের বেলুন, ফেস্টুন নীলাকাশে উড়িয়ে সূচনা হয় ১৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বহুল কাঙ্খিত দুই দিনের বর্ণিল আয়োজন।
প্রাক্তন আর বর্তমান ছাত্রদের সাথে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় শামিল হন স্কুলের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। এরপর স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী দেশ বরেণ্য কবি ও গীতিকার রফিকুজ্জামানের সৃজিত পুনর্মিলনীর থিম সং-এ গলা মেলান উৎসবে যোগ দেওয়া সবাই। যশোর জিলা স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতি আয়োজিত দ্ইু দিনব্যাপী পুনর্মিলনীর আজ সমাপনী দিনের উৎসবে যোগ দেবেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
স্মৃতিবিধুর ক্যাম্পাসে আনন্দ উৎসবে মাতোয়ারা অনেকে বন্ধুকে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন। বহুদিন পর বন্ধু আশিককে কাছে পেয়ে বুকে টেনে নেন স্কুলের নাইনটি নাইন ব্যাচের মেহেদী হাসান স্ট্যালিন। তার পাশেই ১৯৪৩ সালে এসএসসি পাশ করা সফেদ শশ্রুর নূরুল হুদা, সদ্য পাস করা সামিরা মেতে থাকেন খুনসুটিতে। সবমিলে ক্যাম্পাস জুড়ে যেন হয়ে ওঠে ‘নবীন প্রবীণ একপ্রাণ’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যশোর জিলা স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ১৮০ তম বর্ষপূতি অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক এজেডএম সালেক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহীন চৌধুরী, যশোর জিলা স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতি ঢাকার সভাপতি এএএম জাকারিয়া, প্রাক্তন ছাত্র ইয়াসিন আলী, এসএম তৌহিদুর রহমান, এস নিয়াজ মোহাম্মদ, তসদিকুর রহমান, ফখরে আলম, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রাক্তন ছাত্ররা স্মৃতিচারণ করেন। ১৯৪১ সালের এএসসি পাশ করা নুরুল হুদা স্মৃতিচারণ করেন, ‘অনেক দিন পর স্কুল ক্যাম্পাসে এসে প্রাণের স্পর্শ খুঁজে পাচ্ছি। আজকের অনুষ্ঠানে আসতে পেরে খুব খুশি।’ প্রাক্তন ছাত্র তসদিকুর রহমান বলেন, ‘এই স্কুলে আমরা আট ভাই পড়াশুনা করেছি। অনেক স্মৃতি জড়িত আছে। যা ভাষায় বর্ণনাতীত। ’
শুধু নুরুল হুদ কিংবা তসদিকুর রহমান নয়, দুই সহ¯্রাধিক প্রাক্তন ছাত্র স্কুল ক্যাম্পাসে স্মৃতিচারণ আর আড্ডায় ফিরেছেন শৈশবে। স্মৃতিচারণ শেষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কণ্ঠ শিল্পী খুরশিদ আলম, ঐশী ও ডিজে সানিকা দর্শকের মাতিয়ে রাখেন।
যশোর জিলা স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক এজেডএম সালেক জানান, নবীন প্রবীণ এক প্রাণ’ এই শ্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে প্রথম ২০০৫ সালে প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। এরপর ২০১০ ও ২০১৪ সালে স্কুল প্রাঙ্গণে পুনর্মিলনী উৎসব উদযাপিত হয়েছে। এবার ১৮০ বছর পূর্তির এই উৎসবে দেশ-বিদেশের প্রায় দুই হাজার প্রাক্তন ছাত্র ছাড়াও তাদের পরিবার অংশ নিয়েছে। আজ পুনর্মিলনীর শেষ দিনে সকাল সাড়ে ৯টায় র‌্যালির মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। আর অনুষ্ঠান চলবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।

শেয়ার