যশোর হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক ৫ মাসেও উদ্ধার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে গত ৫ মাসেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি চুরির সাথে জড়িত কাউকে সনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। প্রথমে থানা এবং পরে সিআইডি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এ পর্যন্ত দুইজনকে আটকের পর রিমান্ডে নিলেও নবজাতক চুরির ক্লু উদঘাটন হয়নি।
জানা গেছে, গত ৮ জুলাই সদর উপজেলার সাড়াপোল-রূপদিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রুপালি খাতুন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। পরদিন নবজাতকের দাদী সকিনা বেগমকে দেখে দুইজন অপরিচিত নারী-পুরুষ পূর্ব থেকে চেনে দাবি করে কথা বলা শুরু করেন। এরই মধ্যে একজন নবজাতককে কোলে নিয়ে ঘুরাফেরা করার এক পর্যায়ে নিয়ে পালিয়ে চলে যায়। আশপাশে খুঁজাখুজি করে নবজাতককে না পেয়ে সন্দেহ মূলক মমতাজ বেগম নামে এক নারী আটক করা হয়। পরে আটক মমতাজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন সকিনা বেগম। মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ রায় মণিরামপুরের হাজরাকাঠি গ্রামের এসএম সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী মমতাজকে তিনদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি। এরপর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি পুলিশ। সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ সদর উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত রুস্তুম আলীর ছেলে ইমরুল হাসান রিপন নামে আরো একজনকে আটক করেন। কিন্তু তাকেও রিমান্ডে এনে তেমন কোন তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এব্যাপারে মামলার বাদী সকিনা বেগম জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি হলেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, মামলাটি হাতে পাওয়ার পরে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্ব পূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই ভাল সংবাদ পাওয়া যাবে।

শেয়ার