যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নতুন ৫ বিভাগ চালু

এস হাসমী সাজু
চলতি বছর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চালু হয়েছে পাঁচটি নতুন বিভাগ। ফলে দক্ষিণবঙ্গের স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হাসপাতালটি থেকে ব্রেন, শিরা, কিডনি, মানসিক সমস্যা ও শিশুদের অস্ত্রোপচারের মতো জটিল চিকিৎসা এখন সহজলভ্য হয়েছে। তবে হাসপাতালে কিডনি ডায়ালোসিসের ও শিশু পেডেটিক্স সার্জারির মতো কিছু অপারেশনের ব্যবস্থা না থাকায় সংশ্লিষ্ট রোগীদের পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।
হাসপাতাল সূত্র মতে, ২০০৩ সালে ১৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হয় যশোর হাসপাতাল। তখন থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষ অল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার আশায় এই হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন। তবে হাসপাতালে নিউরোলোজি, ইউরোলজি, নেফ্রোলোজি, সাইক্রেটিক্স ও পেডেটিক্স সার্জারি বিভাগ না থাকায় অনেক সময় রোগীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। চিকিৎসকরা তাদের খুলনা ও ঢাকা রেফার করতেন। ফলে অনেকের পক্ষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা চলতি বছর মার্চে এই সমস্যা সমাধানে যশোর হাসপাতালে চালু হয়েছে পাঁচটি বিভাগ। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর কারিশমায় বিভাগগুলো চালু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ২০১০ সালে যশোর মেডিকেল কলেজ চালু হয়। পরে ২০১৫ সালে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালটি যশোর মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ফ্যাক্যাল্টির অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন থেকে কলেজের শিক্ষকরা হাসপাতালে এসে শিক্ষার্থীদের ‘হাতে কলমে’ শিক্ষা দিচ্ছেন। এসব শিক্ষকরা নতুন চালু হওয়া নিউরোলোজি, ইউরোলজি, নেফ্রোলোজি, সাইক্রেটিক্স ও পেডেটিক্স সার্জারি বিভাগের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।
বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচে সপ্তাহে প্রতি রোববার নিউরো মেডিসিন (ব্রেন ও শিরা) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. সোলায়মান কবির, সোমবার কিডনি মেডিসিন (ইউরোলজি) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. শফিউর রহমান ও মঙ্গলবার সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফ উদ্দিন রোগী দেখছেন। একই দিন কিডনি সার্জারি (ইউরোলজি ও নেফ্রোলোজি) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. সিরাজুল ইসলাম ও বুধবার কিডনি সার্জারি (ইউরোলজি ও নেফ্রোলোজি) বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মাসুদ জামান রোগী দেখছেন। এছাড়া অন্তঃবিভাগে ডা. ওবাইদুল কাদের উজ্জল মেডিসিনের পাশাপাশি নেফ্রোলোজি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। শিশু সার্জারি (পেডেটিক্স সার্জারি) সপ্তাহে প্রতি শনি, সোম, বুধ ও বৃহস্পতিবার বহিঃবিভাগে বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. আনছার আলী, শরীফুজ্জামান ও প্রভাষক মোশফেক-উর-রহমান ক্রিটিক্যাল সার্জারি শিশুরোগী দেখছেন। সপ্তাহের মঙ্গলবার হাসপাতালে শিশুদের জন্মগত ইনটেসটিনাল, অবস্ট্রাকশন, জন্মগত হার্নিয়া, হাইপোসপেতিয়াসের (প্রস্রাবের ছিদ্র নিচে থাকা) মতো রোগীর অপারেশন হচ্ছে। এর বাইরে শিশুদের অনেক অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। আর প্রতি রোব, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার মেডিকেল কলেজের মানসিক (সাইক্রেটিস) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুর রহমান রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি (পেডেটিক্স সার্জারি) বিভাগের প্রভাষক মোশফেক-উর-রহমান বলেন, ‘আগে শিশুদের ক্রিটিক্যাল কোন অপারেশন এই হাসপাতালে হতো না। কিন্তু যশোর মেডিকেল কলেজ চালু হওয়ায় এখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হাসপাতালে এসে সপ্তাহে একদিন চিকিৎসা ও অপারেশন করছেন। এই সুযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের করে দিয়েছেন। ফলে এই অঞ্চলের শিশুরা কম খরচে সহজেই অনেক সেবা পাচ্ছে।’
হাসপাতালের মেডিসিন নেফ্রোলোজি বিশেষজ্ঞ ডা. ওবাইদুল কাদের উজ্জল বলেন, ‘যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যাপকসহ কয়েকজন চিকিৎসক নেফ্রোলোজি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। কিন্তু যশোর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালোসিসের মেশিন নেই। ফলে রোগীদের যশোরে বেসরকারি ব্যবস্থায় অথবা ঢাকায় ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে গিয়ে কিডনির ডায়ালোসিস করাতে হচ্ছে। যশোরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলে তখন এসব রোগীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালোসিসের সুবিধা পাবেন।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা একেএম কামরুল ইসলাম বেনু সমাজের কথা’কে বলেন, ‘জেলা বিএমএ’র সহযোগিতায় অনেক আগে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে হাসপাতালে যশোর মেডিকেল কলেজের ফ্যাক্যাল্টি চালুর অনুমোদন আনা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। আর চলতি বছর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে যোগদান করে রোগীদের প্রয়োজন বিবেচনা করে মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের মাধ্যমে নিউরোলোজি, ইউরোলজি-নেফ্রোলোজি, সাইক্রেটিক্স ও পেডেটিক্স সার্জারি বিভাগ চালু করেছি। একাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ মাহাবুবুল মওলা চৌধুরী।

শেয়ার