যশোর প্রধান ডাকঘরের কান্ড
আধকিলোমিটার যেতে আড়াই মাস!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর প্রধান ডাকঘর থেকে দৈনিক সমাজের কথা পত্রিকা দপ্তরের দূরত্ব আধা কিলোমিটারেরও কম। অথচ এই পথ পাড়ি দিয়ে একটি চিঠি পত্রিকা কার্র্যালয়ে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় আড়াই মাস। অথচ আকাশপথে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসতে তার সময় লেগেছে মাত্র দেড় মাস। আর এর মাঝেই ‘গুগল’ প্রেরিত গুরুত্বপূর্ণ এই চিঠিতে পাঠানো ‘কোড’র মেয়াদ পার হয়ে গেয়ে। তাই দুর্ভোগের শিকার হতে হয় সমাজের কথাকে।
আগস্টের ২২ তারিখে দৈনিক সমাজের কথার ওয়েব পোর্টালের জন্য ‘গুগল মাই বিজনেস’ এ একটি অনুরোধ পাঠানো হয়। সেখান থেকে চিঠি পাঠানো হবে বলে ওই দিনই সমাজের কথার ই-মেইলে প্রতিউত্তর আসে। সেখানে জানানো হয়, ‘কয়েকদিনের মধ্যে উল্লেখিত ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হবে’। এরপর থেকে সমাজের কথার আইটি এক্সপার্টের দায়িত্বে থাকা ওয়াসিম হোসেন নিয়মিত যশোরের প্রধান ডাকঘরের সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন। কিন্তু প্রধান ডাকঘর থেকে প্রতিবারই বলা হয়, ‘সমাজের কথার নামে এ ধরণের কোনো চিঠি আসেনি।’ অবশেষে গতকাল বেলা এগারোটার দিকে ‘গুগল মাই বিজনেস’ এর পাঠানো সেই চিঠি যশোরের লোহাপট্টির দৈনিক সমাজের কথার কার্যালয়ে এসে পৌঁছে। চিঠিটি খুলতেই দেখা যায়, সেখানে পাঁচ সংখ্যার একটি কোড এবং কিছু নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী ওয়েভে ঢুকতে গেলে দেখা যায়, কিছুদিন আগে এই কোডটি ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। অথচ চিঠির উপরে ‘গুগল’ থেকে ইংরেজিতে যে কথাটি স্পষ্ট লেখা ছিলো তার অর্থ ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযুক্ত’। পরে দেখা যায়, চিঠির উপরে যশোর প্রধান ডাকঘরের যে সিল দেয়া হয়েছে তাতে অক্টোবরের ৩ তারিখ লেখা রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল মিরাজুল হক জানান, ‘এমনটি হওয়ার কথা নয়। তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে জড়িতদের ব্যাপরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার