ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার অস্ট্রেলিয়ার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্যাট কামিন্সের বাউন্সার ক্রিস ওকসের ব্যাট ছুঁয়ে আশ্রয় নিল টিম পেইনের গ্লাভসে। গুটিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ধারাভাষ্য কক্ষে মাইকেল স্ল্যাটারের উচ্ছ্বসিত উচ্চারণ, “দেয়ার ইট ইজৃদেয়ার ইট ইজৃলুক অ্যাট দা অজিসৃ।” অস্ট্রেলিয়ানদের উদযাপন আসলেই ছিল দেখার মত। হওয়ারই কথা। প্রথম তিন টেস্টেই অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের উচ্ছ্বাস তো বাঁধনহারা হবেই!

আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে সত্যি করে ঝড়-বৃষ্টি ছোবল দিয়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছিল ভেজা উইকেট। তবে শঙ্কার কালো মেঘ উড়ে গেছে একসময়। খেলা শুরুর পর ইংল্যান্ডকেও উড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পার্থ টেস্টে জিতেছে ইনিংস ও ৪১ রানে।

ওয়াকায় সোমবার দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৮ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্রথম তিন টেস্ট জিতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলল অস্ট্রেলিয়া। ‘বক্সিং ডে’ আর নতুন বছরের টেস্ট এখন কেবলই ব্যবধান বাড়ানো আর কমানোর লড়াই।

অস্ট্রেলিয়ার দিনটি শুরু হয়েছিল আবহাওয়ার হতাশায়। আগের রাতের প্রবল বৃষ্টিতে কাভারের ফাঁক দিয়ে পানি ঢুকে যায় উইকেটের কিছু অংশে। সেটি শুকানোর আগেই আবার নামে বৃষ্টি। প্রথম সেশনে তাই খেলা হয়নি।

মাঠ কর্মীদের নিরলস চেষ্টার পর যখন শুরু হলো খেলা, সারাদিনে সম্ভাব্য ৯৮ ওভারের মধ্যে সম্ভব ছিল ৭০ ওভারের মতো। অস্ট্রেলিয়ানদের লেগেছে স্রেফ এর অর্ধেক ওভার।

শুরুতেই জনি বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে বড় বাধা সরান জশ হেইজেইলড। আগের দিনের ১৪ রানের সঙ্গে আর কোনো রানই যোগ করতে পারেননি প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান।

সিরিজের ষষ্ঠ ইনিংসে পঞ্চমবার নাথান লায়নের শিকার হলেন মইন আলি। হেইজেলউড-কামিন্স হয়ে উঠলেন অপ্রতিরোধ্য। ভেঙে পড়ল ইংল্যান্ড।

লড়াই করেছেন কেবল ডাভিড মালান। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান এবার করেছেন ৫৪। তাকেও ফিরিয়ে দেন হেইজেলউড। পরে ক্রেইগ ওভারটনকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ৫ উইকেট।

ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার দাবিদার ছিলেন হেইজেলউড। তবে ২৩৯ রানের ইনিংস খেলে সেটি পেয়েছেন স্মিথ। ম্যাচ শেষে উদযাপনের মধ্যমণিও ছিলেন এই দুজন। ম্যাচের বলটি পড়েছিল মাঠের একটি প্রান্তে। স্মিথ ছুটে গিয়ে বলটি তুলে এনে স্মারক হিসেবে দিলেন হেইজেলউডের হাতে।

এমনিতে খুব বেশি আবেগ না দেখালেও এদিন স্মিথ ছিলেন ব্যতিক্রম। উচ্ছ্বাস একটুও লুকালেন না। ছুড়লেন হুঙ্কার। বুঝিয়ে দিলেন যেন, অ্যাশেজ জয় কতটা স্পেশাল!

 

শেয়ার