পুনশ্চের অর্ধ যুগে পা – সায়ন্তনী দেবনাথ

ফাইল ফটো

আজ পুনশ্চের ছয় বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। ২০১১ সালের মহান বিজয়ের মাসে একগুচ্ছ উচ্ছল প্রাণবন্ত কিশোর ও তরুণদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ প্রতিষ্ঠান। মূলত গণসঙ্গীতকে ভিত্তি করে পুনশ্চের পথচলা শুরু হলেও ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে যশোরের গুণী ও মানসম্মত শিক্ষকদের সমন্বয়ে প্রথাগত সঙ্গীত শিক্ষার স্কুল শুরু হয়। সংগঠনের ছায়াতলে গড়ে ওঠে একটি নাটকের দলও। যা ইতিমধ্যে শহরের অন্যতম নাট্যদল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠার বছর পেরোতে না পেরোতেই দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারের লক্ষে ভারত সফরের ডাক আসে পুনশ্চের কাছে। তিনদিনের সফরে সেবার পশ্চিম বাংলার ২৪ পরগনাতে যায় সংগঠনের নির্বাচিত শিল্পীবৃন্দ। পরের বছর নিমন্ত্রণ আসে মুর্শিদাবাদ থেকে। সেখানে নানা অঞ্চলে নিজেদের পরিবেশনায় সকলের মন জয় করতে সক্ষম হয় সংগঠনটি। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৬ সালে আবার বহরামপুরের শহর ছাড়িয়ে গ্রামে পৌছে যায় পুনশ্চ।
রাজধানী ঢাকার বড় বড় আয়োজনে আমন্ত্রণ পেয়েছে পুনশ্চ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের গণসঙ্গীত উৎসব, ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর ৪০ বছর পূর্তি আয়োজন তার অন্যতম। আসছে জানুয়ারিতেও বড় আরেক আয়োজনের আমন্ত্রণ রয়েছে পুনশ্চের।
সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার লক্ষে শুরু থেকে নতুন শিল্পী সৃষ্টি, মননশীল দর্শকশ্রোতা তৈরিতে বাংলাগানের নানা ভা-ারকে ব্যবহারে মনোযোগী হয়। শুরু হয় নিয়মিত বাংলা গানের আসর ‘একতারা’। নিজস্ব জায়গা না থাকায় প্রথম থেকেই টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠান আয়োজন করে পুনশ্চ। বিভিন্ন মিলনায়তন বন্ধ থাকায় এ টাউন হল মাঠ এখন প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানের জন্য অন্যতম প্রধান আশ্রয় স্থল।
প্রতিষ্ঠার ছয় বছরের মধ্যে এ সংগঠনটি ২০১৫ সালে নিজস্ব ৬ টি নাটকের সমন্বয়ে ১ দিনের নাট্যমেলার আয়োজনে করে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত হয় একদিনের নৃত্যানুষ্ঠান যেখানে ২২টি নাচ উপভোগ করেন যশোরবাসী। ২০১৬ সালে শাহ আব্দুল করীমের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে তার কালজয়ী গান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দুই ঘন্টার অনুষ্ঠান। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় নাট্যদল এবং বিবর্তনকে নিয়ে তিনদিনের নাটোৎসব হয়। ২০১৫ সালে মান্না দে স্মরণে সুকুমার দাসের একক গানের অনুষ্ঠানও ছিল সকলের বিশেষ প্রশংসার। সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর সুকুমার দাসের ৬০ তম জন্মবার্ষিকীতে তারই সুর করা ১৯টি গানের সমন্বয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়। যে অনুষ্ঠানে শহরের অন্য ১২টি সংগঠনের শিল্পীরা একক ও সমবেত গান পরিবেশন করেন।
বাংলা বর্ষ বিদায় ও বরণ, বসন্ত উৎসব, পিঠা উৎসব, ফল উৎসব, রবীন্দ্র জয়ন্তী এসব আয়োজন দিয়ে পুনশ্চ সবসময় নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখছে। স্বাধীনতার পক্ষে দেশ মা মাটি মানুষের কল্যাণে প্রয়োজনে যেমন সহায়তার হাত বাড়াচ্ছে তেমনি প্রতিবাদ করতেও পিছু পা হয় না। আগামী বছর মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৪ তম জন্মতিথিতে তাঁরই রচিত ব্রজঙ্গণা কাব্য নাটকের গান ও সনেট থেকে সুকুমার দাসের সুর করা গান নিয়ে একটি সিডি তৈরির কাজ চলছে। ২৫ জানুয়ারি সেই সিডির মোড়ক উন্মোচন হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে।
সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় আগামীতে পুনশ্চ কাজ করে যেতে চায় সকলের সহযোগিতা ও ভালবাসায়।

লেখক : অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক, পুনশ্চ, যশোর।

শেয়ার