নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শনিবারের শীতের সকালটি যেন অন্যরকম ছিল। ঘুম থেকে উঠেই স্মৃতি স্তম্ভ-বিজয় স্তম্ভের পথে রওনা। হাতে ফুল; পোশাকে লাল-সবুজের প্রাধান্য। ৪৬ বছর আগে এই দিনটির জন্য যারা জীবন দিয়েছিলেন তাদের শ্রদ্ধা জানাতেই সকালের এই ব্যস্ততা। বিজয়ের ৪৬তম বার্ষিকীতে একাত্তরের রণাঙ্গনে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজয়ের বীর সৈনিকদের শ্রদ্ধা ও তাদের রক্ত-সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া দেশকে ভালবাসতেই নতুন এ প্রজন্ম এমন কর্মসূচির আয়োজন করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠনের শপথের মধ্যে দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে সব শ্রেণি পেশার মানুষ। যশোরের জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পালন করে বিভিন্ন কর্মসূচি। যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ। শহরে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এদেশের দামাল ছেলেরা পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে ছিনিয়ে আনেন লাল-সবুজ পতাকা। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র-বাংলাদেশ। ৪৬ বছর আগের সেই দিবসটিকে স্মরণ করে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় শহীদদের স্মরণে বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ, চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের নেতৃত্বে যশোর জেলা পরিষদ, মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর নেতৃত্বে যশোর পৌরসভা, খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদের নেতৃত্বে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, সভাপতি রবিউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার রায়ের নেতৃত্বে জেলা জাসদ। এছাড়াও যশোর মেডিকেল কলেজ, এমএম কলেজ, সিটি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, যশোর শিক্ষা বোর্ড, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিএমএ যশোর, ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন, যশোর ইনস্টিটিউট, যশোর স্বাচিপ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর জেলা যুবলীগ, যশোর জেলা মহিলা লীগ, যশোর জেলা যুবমহিলা লীগ, যশোর জেলা শ্রমিকলীগ, যশোর জেলা ছাত্রলীগ, যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার, যশোর জিলা স্কুল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর, দৈনিক লোকসমাজ পরিবার, দৈনিক স্পন্দন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, জেলা কমিউনিস্ট পার্টি, যশোর মটর পার্টস ব্যবসায়ী মালিক সমিতি, ভোরের সাথী, যশোর পৌরসভা, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, যশোর গণসংহতি আন্দোলন, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ, যশোর শিল্পকলা একাডেমি, যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি, যশোর জেলা মহিলা পরিষদ, যশোর জেলা যুবদল, যশোর জেলা ছাত্রদল, নগর ছাত্রদল, জনউদ্যোগ, পুনশ্চ, চাঁদের হাট, বিবর্তন যশোর, স্পন্দন, শেকড়, সুরবিতান, সুরধুনী, যশোর কলেজ, উপশহর মহিলা কলেজ, জাগপা, বাসদ, জাতীয় পার্টি, সনাতম ধর্ম, উলাসী সৃজনী সংঘ, ব্যুরো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।


এসময় মুক্তিযদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার শপথ বাক্য পাঠ করান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। শপথ বাক্য পাঠ করানোর সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, সহ-সভাপতি অ্যাড. জহুর আহম্মেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের, প্রচার সম্পাদক মুজিবুদ্দৌলাহ সরদার কনক, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, পৌরসভার কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মনি চাকলাদার, জেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক জিয়াউল হাসান হ্যাপী, সদস্য শাহারুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান সাগর, কাজী আলমগীর আলম, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান লাল, যশোর জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী, সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন, সদর শাখার সাবেক সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বাবলু, যশোর জেলা যুবমহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, সাধারণ সম্পাদক শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার জলি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, বর্তমান সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহম্দে জিসানসহ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে শুরু হয় মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে। এতে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। জেলা সিভিল সার্জন অফিসে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণন। জেলার বিভিন্ন সিনেমা হলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। টাউন হল ময়দানে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয় জেলা প্রশাসন। যশোর শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। বিকালে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রবীণদের হাঁটা প্রতিযোগিতা এবং জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা নাগরিক একাদশের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। সিটি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় টি২০ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। বিজয় দিবসের সন্ধ্যায় যশোর টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ‘সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা সভা।

বিসিএমসি কলেজ
জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিজয় র‌্যালি, বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, দেয়াল পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন, রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং আলোচনার মাধ্যমে বিসিএমসি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ে উদযাপিত হয়েছে বিজয় দিবস। এসব অনুষ্ঠানে বিসিএমসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল কবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম রেজাউল কবীর।
বিজয় দিবসের কর্মসূচির একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সাহিত্যকর্ম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লেখা প্রবন্ধ, গল্প-কবিতা দিয়ে প্রকাশিত হয় ২টি ম্যাগাজিন। বিসিএমসি ম্যাগাজিন ক্লাব প্রকাশিত ম্যাগাজিনগুলোর মধ্যে ছিল বাংলা দেয়াল পত্রিকা ‘মনন’, ইংরেজি দেয়াল পত্রিকা ‘প্যানোরমা’। এছাড়াও বিসিএমসি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় রচনা প্রতিযোগিতা।
বিসিএমসি হল রুমে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন এন্ড সোসাল সাইন্স ফ্যাকাল্টির প্রধান অধ্যাপক মো. সারাফাত হোসেন, গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. আহাদুজ্জামান মৃধা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেরিন ৭ম পর্বের মো. নাহিদ হাসান, টেক্সটাইল ৫ম পর্বের, মো. রায়হানুল ইসলাম ও কেমিক্যাল ৩য় পর্বের মো. সাইফুল ইসলাম।
কোরআন তেলোয়াত ও দোয়া মোনাজাত করেন বিসিএমসি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব ও পেশ ইমাম আলহাজ মুফতি মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান। রচনা প্রতিযোগিতায় ১ম হন টেক্সটাইল ৫ম পর্বের মো. রায়হানুল ইসলাম ২য় মেরিন ৭ম পর্বের মো. নাহিদ হাসান ও ৩য় কেমিক্যাল ৩য় পর্বের মো. সাইফুল ইসলাম।
এর আগে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা, পরে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিজয় র‌্যালি বের হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও ক্যাডেট কোর ও ব্যান্ডপার্টির অংশগ্রহণ র‌্যালিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। র‌্যালিটি বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে যেয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। এরপর পরই র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ
শনিবার যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ২০১৭ উদযাপন করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ’র নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ র‌্যালি করে বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ আব্দুল আলীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. গাজী মনিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মহিবুল আকবার মজুমদার। উল্লেখ্য, যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ডিসপ্লেতে অংশ গ্রহণ করে যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ শনিবার সকালে বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালিসহ শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় (মনিহার) বিজয় স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে।
পরে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠ। এতে সভাপতিত্ব করেন সহ-সভাপতি কাজী রকিবুল ইসলাম। এসময় বক্তব্য রাখেন কবি পদ্মনাভ অধিকারী, কবি গোলাম মোস্তফা মুন্না, কবি আবুল হাসান তুহিন, কবি কমলেশ চক্রবর্তী, কবি নূরজাহান আরা নীতি, কবি গোলাম রসুল, রবিউল ইসলাম মিটু, বাবু, মোস্তানূর ইসলাম স্বাক্ষর প্রমুখ।
সনাক-টিআইবি’র শ্রদ্ধাঞ্জলি
‘দুর্নীতি বিজয়ের চেতনার পরিপন্থি’ এই চেতনাকে ধারণ করে বিজয় দিবসে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) যশোরের উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি ও শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। শনিবার সকাল ৮টায় সংগঠন কার্যালয় থেকে র‌্যালিটি বের হয় এবং শহর প্রদক্ষিণ শেষে শহরের মণিহার এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। র‌্যালির নেতৃত্ব দেন স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন) সদস্য মো. মামুনুর রশিদ। পুষ্পস্তবক অর্পণে উপস্থিত ছিলেন সনাক সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক সুকুমার দাস।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, মহান বিজয় দিবস। উপলক্ষে শনিবার দিনের প্রথম প্রহরে দলে দলে মানুষ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৭টায় জেলা শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ডে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ফলকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন পুস্পমাল্য অর্পন করেন। পর্যায়ক্রমে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস ও সিভিল সার্জন ডাক্তার রাশেদা সুলতানা ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়াও ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব এর পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন ক্লাবের সভাপতি এম রায়হান সহনেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা আইনজীবী সমিতি, আওয়ামী লীগ, জাতীয়পার্টি, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ সর্বস্তরের মানুষ।

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি জানান, বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে ঝিকরগাছায় ৪৬তম মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩১বার তোপধনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সুচনা হয়। সকালে উপজেলা প্রশাসনসহ সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্বরণে বিজয় স্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পন করেন, উপজেলা প্রশাসন, এমপি, পৌর পরিষদ, ঝিকরগাছা থানা, উপজেলা বিএনপি, উপজেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা ছাত্রলীগ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপর ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্দ্ধনা ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে বিএম হাইস্কুল মাঠে উপজেলা প্রশাসন বনাম পৌরসভা সুধীজনের মধ্যে ফুটবল প্রতিযোগীতা এবং সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যশোর-২ আসনের এমপি অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, সাধারন সম্পাদক মুছা মাহমুদ, পৌর মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল, মুক্তিযোদ্ধা, সরকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। কর্মসূচির মধ্যেছিল সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিজয়স্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পন, র‌্যালি ও আলোচনাসভা।

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাঘারপাড়ায় বিজয় দিবসের নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে সাতটায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংগঠন পুস্পমাল্য অর্পন করে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে রনজিৎ কুমার রায় এমপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামীলীগ, তরুণলীগ, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, প্রেসক্লাব, পৌরসভা, বিএনপি, জাকের পার্টি, বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ, মহিলা কলেজ সহ বিভিন্ন সংগঠন পুস্পমাল্য অর্পণ করে। এরপর পাইলট স্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রণজিৎ কুমার রায় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ুর রহমান, নির্বাহী অফিসার শাহনাজ বেগম ও ওসি মুনঞ্জুর আলম।

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি জানান, প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে চৌগাছায় দিনের র্কমসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ছয়টায় ৭১-এর রণাঙ্গন মুক্তিনগর শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পন, সাড়ে সাতটায় মুক্তিনগর স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পন ও সাড়ে আটটায় চৌগাছা শহরের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ও বিজয়স্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনসহ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান ব্যানার নিয়ে বিজয় র‌্যালি বের করে। র‌্যালিতে অংশ নেয় উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, প্রেস ক্লাব, চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ, ডিগ্রী কলেজ, এস এম হাবিবুর রহমান পৌর কলেজ, শাহাদৎ পাইলট, ছারা পাইলট, কামিল মাদ্রাসা, চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চৌগাছা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। এরপর স্থানীয় শহাদৎ পাইলট স্কুলের মাঠে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস পারভীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড: মনিরুল ইসলাম মনির। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিরুর রহমান ।

আশাশুনি প্রতিনিধি জানান, আশাশুনিতে বিন¤্র শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরন করে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। বিজয়ের দিন প্রত্যুষে থানা প্রাঙ্গনে অফিসার ইনচার্জ শাহিদুল ইসলাম শাহীনের নেতৃত্বে ৩১ বার তোপধ্বনীর মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল অফিস, প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতিসৌধে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম, সাধারণ সম্পাদক এড. শহিদুল ইসলাম পিন্টুর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ এবং উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এড. গোলাম গণি দুদু ও সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল আহসানের নেতত্বে উপজেলা বিএনপি, জাতীয় পার্টি, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আশাশুনি সরকারি কলেজ, আশাশুনি মহিলা কলেজ, ইউপি চেয়ারম্যান স,ম সেলিম রেজা মিলনের নেতৃত্বে সদর ইউনিয়ন পরিষদ, সদস্য মহিতুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা পরিষদ, আশাশুনি প্রেসক্লাব, আশাশুনি উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাব, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, আশাশুনি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আশাশুনি বালিকা বিদ্যালয়, ফ্রেন্ডস্ ক্লাব, উপজেলা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুরে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমপি- নবী নেওয়াজ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, পৌর সভা, উপজেলা ও পৌর যুবলীগ, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগ, কলেজ ছাত্রলীগ, ভ্যান শ্রমীক ইউনিয়ন, শেখ রাসেল সৃতি সংঘ, উপজেলা ও পৌর জাকের পার্টিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র- ছাত্রীরা পুস্পমাল্য অর্পন করে। পরে দুপুরে অডিটরিয়াম চত্ত্বরে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ।
অপরদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন ঝিনাইদহ- ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুল আজম খান চঞ্চল,উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ নিজাম উদ্দিন,পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান,জেলা পরিষদের সমস্য শেখ হাসেম আলী,এম এ আসাদ,আশরাফুন নাহার শিউলী,উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ,পান্তাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন,সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা প্রভাষক মুকুল গাজিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃ বৃন্দ।
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন তালুকদার মায়া ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ময়জদ্দিন হামিদ দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে কলেজ বাস ষ্ট্যান্ডে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃক্তিতে পুস্পমাল্য অর্পন করেন।

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি জানান, শালিখা উপজেলা প্রসাশনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়, এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী মজুমদার। বক্তব্য রাখেন শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ শ্যামল কুমার দে, আড়পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আরজ আলী বিশ্বাস, শালিখা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সর্দার ফারুক আহম্মেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু বক্কার মাষ্টার, মুক্তিযোদ্ধা কৃষিবিদ জিএম শাহ্ আলম প্রমুখ। এদিকে সীমাখালী ইসলামিয়া ক্যাডটে একাডেমীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাগআঁচড়া (যশোর) প্রতিনিধি জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাগআঁচড়া, শংকরপুর ও কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে এক বিজয় র‌্যালি বাগআঁচড়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালামের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল, কায়বা ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দীন, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ইয়াকুব হোসেন বিশ্বাস, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাখওয়াত হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান মন্ডল, আসাদুল ইসলাম মেম্বর, শেখ শহিদুল ইসলাম, আলী আহম্মদ মেম্বর, আরিনা খাতুন, মোজাজ গাজী মেম্বর, ইদ্রীস আলী সর্দার, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান তুতুল, যুবলীগ নেতা মহিদুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শিপলু, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান, সভাপতি অহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক ইমন হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবীব পল্টু, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অপু, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আসলাম সরদার ও কায়বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন হাসান।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ কবীর হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, জেলা পরিষদ সদস্য হাসান সাদেক, সোহরাব হোসেন প্রমুখ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সম্মুখে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, যুদ্ধকালীন কমান্ডার কাজী রফিকুল ইসলাম, এ্যাড. মিলন মিত্র, রমেশ চন্দ্র দত্ত, ছাত্রলীগের মানিক প্রমুখ। অপরদিকে কেশবপুর থানা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান আবু বকর আবু। বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর কুতুব উদ্দীন বিশ্বাস, যুবনেতা আব্দুল হালিম অটল, আবু নইম, জাহাঙ্গীর কবির মিন্টু, নজরুল ইসলাম, বাবলু, পৌর ছাত্র দলের সভাপতি মোকাদ্দেছুর রহমান বাবু, সহ-সভাপতি পলাশ, ফরিদ উদ্দীন প্রমুখ।

রূপদিয়া (যশোর) প্রতিনিধি জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যশোর সদর উপজেলার শাখারীগাতী এমএল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অর্ণির্বান যুব সংঘের আয়োজনে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল হাকিম স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট-২০১৭ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার বিকাল ৩টায় ১৬ দলিয় এই ফুটবলে নওয়াপড়া একাদশ বনাম চেঙ্গুটিয়া একাদশের মধ্যেকার প্রথম খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাহবুব আলম লাভলু।

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, তালায় যথাযোগ্য মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দু’দিনের কর্মসূচী ঘোষনা করে। ১৫ ডিসেম্বর তালার মাগুরায় ৪ শহীদের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে ৩১বার তোপধ্বণির মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচী সূচনা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান সভায় নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন’র সভাপতিত্বে- প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, সাতক্ষীরা-১ (তালা- কলারোয়া) সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পাটকেলঘাটায় ৪৭তম মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এছাড়া থানার সকল ইউনিয়ন থেকেও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার অংগসংগঠনের উদ্যোগে দিনভর ক্রিড়া প্রতিযোগিতা, বিকাল ৪টায় পাটকেলঘাটা ফুটবলমাঠে আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ও পুরস্কার বিতরণ করেন- তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, তালা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইখতিয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মীর জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুস সামাদ, উপাধ্যক্ষ আতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিশ্বাস আতিয়ার রহমান, প্রধান শিক্ষক বাবলুর রহমান এবং ওলামালীগের আনছার আলী।

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পালিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল তোপধনির মাধ্যমে শুভসূচনা, সকল ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, উপজেলা ডাবুর মাঠে আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ, ডিস প্লে এবং সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ইউএনও মাশরুবা ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) পিংকি সাহা, ওসি মুন্সী আসাদুজ্জামান। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারাহানা ইয়াসমিনের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী জাফর উদ্দিন, আলহাজ¦ আনোয়ারুজ্জামান মোল্যা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সরদার সাহাবুদ্দিন জিপ্পী, এস মৃনাল হাজরা, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মাদ শিপলু প্রমুখ।

শেয়ার