অভিমানে স্বামীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্ত্রীর সাথে অভিমান করে সিদ্দিকুর রহমান (২৭) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ওয়াপদা অফিসপাড়ার কেয়া কুঠিরে এঘটনা ঘটে। মৃত সিদ্দিকুর রহমান বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে। চাকুরির সুবাদে তিনি যশোরে থাকতেন। মৃতের স্ত্রী সোহানা খাতুনকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছে পুলিশ।
থানায় সোহানা খাতুন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সিদ্দিকুর রহমান বরগুনা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করতেন। আর সোহানা খুলনার বয়রা সরকারি মহিলা কলেজে লেখাপড়া করতেন। মোবাইল ফোনে ফেইসবুকে তাদের দুইজনের পরিচয়। পরিবারের সম্মতি নিয়ে গত ১০ জুলাই সোহানা ও সিদ্দিকুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে সিদ্দিক সিটি গ্রুপ নামে একটি কোম্পানিতে যশোরে চাকরি নেন। চাকরির সুবাধে তারা ওয়াপদা অফিসপাড়ার কেয়া কুঠিরের তৃতীয়তলায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। সম্প্রতি ওই বাসা তাদের পছন্দ না হওয়ায় অন্যত্র বাসা খুুঁজতে যাওয়ার জন্য স্বামী-স্ত্রী দুইজনেরই যাওয়ার কথা। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাসা দেখার জন্য যেতে বলেন সোহানা। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে সোহানাকে বকা দেন সিদ্দীক। এক পর্যায়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিত-া চরম আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে সিদ্দিক ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওড়না গলায় পেঁচায়। তিনি দরজা খুলতে না পেরে আশপাশের ভাড়াটিয়াসহ বাড়িওয়ালাকে ডাক দেন। পরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কল্লোল কুমার সাহা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ খবর পেয়ে থানা পুলিশ সোহানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রেখেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা ছিল। মৃত সিদ্দিকের বাড়ি থেকে পরিবারের লোকজন আসছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শেয়ার