বনদস্যু সুমন বাহিনীর অপহরণ বাণিজ্য বিকাশে দু’লাখ টাকা দেয়ার পর ছাড়া পেলেন শরণখোলার দুই জেলে

এমাদুল হক (শামীম) শরণখোলা ॥ সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনীর হাতে অপহৃত শরণখোলার দু’জেলে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ৩০ নভেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ছাপরা খালীর চর থেকে উপজেলার উত্তর রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা জেলে মানিক হাওলাদার (৩৫) ও ছগির খানকে (৪৫) অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বনদস্যু সুমন বাহিনীর সদস্যরা। পরে গত ১১ ডিসেম্বর অপহৃত জেলে পরিবারের সদস্যরা একাধিক এজেন্ট ও পার্সনাল বিকাশ নম্বরে দস্যুদের দাবিকৃত ২ লাখ টাকা দেন। পরবর্তীতে খুলনা রেঞ্জের বানিয়াখালী স্টেশন এলাকায় গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ওই জেলেদের ছেড়ে দিয়ে যায় বনদস্যুরা।
ফিরে আসা মানিকের স্ত্রী রোকসানা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, বানিয়াখালী স্টেশন এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে তার স্বামীসহ অপর জেলেকে ছেড়ে দেয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ১৩ ডিসেম্বর বিকালে তাদের দুজনকেই পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি আনা হয়। জেলে মানিক ও ছগির বলেন, অপহরণের দিন (৩০ নভেম্বর) বিকালে তারা দু’জনে সুন্দরবনের ওই চর সংলগ্ন এলাকার নদীতে ফেলে রাখা জাল তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সুমন বাহিনীর ৩/৪ সদস্য নৌকা যোগে এসে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে। এ সময় অপর ট্রলারে থাকা উপজেলা তাফালবাড়ী এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী পলাশ মাহমুদের ফিশিং ট্রালারের শ্রমিক খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা জেলে হাসান দস্যুদের হাতে আটক জেলে মানিক ও ছগিরকে দেখে তাদের মহাজন রাজ্জাকের বিরুদ্ধে নানা বানোয়াট অভিযোগ করে আমাদের চরম শিক্ষা দিতে দস্যুদলকে ক্ষেপিয়ে দেয়। পরবর্তীতে দস্যুরা তাদেরকে নিয়ে নৌকার মধ্যে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। মারপিটের পাশাপাশি নির্যাতন করে হাতের নখ তুলে দেয় জেলে মানিকের। তিন বেলা খাবারের স্থলে কোনদিন একবেলা আবার কোনদিন দু’বেলা আধাঁ পেট করে খেতে দেয় কিন্তু পানি দেয়নি। নদী ও খালের লবন পানি পান করতে হয়েছে। এছাড়া রাতের বেলা দস্যুরা ঘুমিয়ে থাকলেও তাদেরকে দিয়ে রাতভর নৌকা চালাতে বাধ্য করা হতো। এ নির্দেশ কেউ অমান্য করলে তার উপর চালানো হতো নিষ্ঠুর নির্যাতন। ছাপরাখালির চর থেকে তাদেরকে জিম্মি করা হলেও গত ১২ দিন ধরে খুলনা রেঞ্জের কয়রাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের দু’জনকে নিয়ে চলাফেরা করেছে দস্যুরা। জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসক সিব্বির আহম্মেদ জানান, কে বা কারা নির্যাতন করেছেন তা তাকে অবহিত করা হয়নি। তবে ওই জেলেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে অনেক সময়ের প্রয়োজন।

শেয়ার