দাম কমে নেমেছে অর্ধেকে ডিম নিয়ে বিপাকে পাইকগাছার মুরগী খামারীরা ॥ লোকসানের আশংকা

আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা ॥ পাইকগাছায় দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মুরগী খামারীরা। অতিরিক্ত ডিম সংরক্ষণ নিয়ে যেমন হিমশিম খেতে হচ্ছে তেমনি দাম কমে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশংকা করছেন খামার মালিকরা। মৌসুমীগত ভারতের গরু আমদানী বৃদ্ধি ও গো-মাংসের দাম কমে যাওয়ায় ডিমের চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ মনে করছেন খামারী ও প্রাণী সম্পদ দপ্তর কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় মুরগী শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য সংরক্ষণ বিষয়ক উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, অধিক ধারণ ক্ষমতার সরকারী সংরক্ষণাগার নির্মাণ ও বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন খামার মালিকরা।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের সূত্রমতে, উপজেলায় রেজিস্ট্রেশনকৃত ব্রয়লার ও লেয়ারের খামার রয়েছে ২৮৫টি। যারমধ্যে লেয়ারের খামার রয়েছে অর্ধশতাধিক, আর নিবন্ধনের বাইরে লেয়ারের খামার রয়েছে শতাধিক। সবমিলিয়ে ডিম উৎপাদনের জন্য প্রায় দেড় শতাধিক মুরগীর খামার রয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সাড়ে ৫ মাসে উপজেলায় ডিম উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার ৪৩৫টি। প্রতিমাসে গড় ডিম উৎপাদন হয় ৩৬ লাখ ১২ হাজার ৩৫০টি। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদিত ডিম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মুরগী খামারীরা। একারণে সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে থাকা সরল গ্রামের খামার মালিক সন্ধ্যা রানী ব্যাপক লোকসানের আশংকা করছেন। তিনি জানান, আমার ১ হাজার মুরগির মধ্যে বর্তমানে সাড়ে ৮’শ মুরগী রয়েছে। খামার থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৭’শ ডিম উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু ডিমের কোন চাহিদা নেই। কয়েক হাজার ডিম বাড়িতে মজুদ রয়েছে। ঘরের বাক্স, ড্রাম, খাঁটের তলসহ এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ডিম রাখিনি। ডিমের জন্য আমরা বাড়িতে চলতে পারছি না। এতো ডিম কোথায় রাখবো এ নিয়ে মহা দুঃচিন্তায় রয়েছি। এছাড়া ডিমের দামও অনেক কমে গেছে। বর্তমানে ৪ টাকা থেকে সাড়ে ৪ টাকা দরে প্রতিটি ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন মুরগীর খাবারের জন্য যে টাকা খরচ হচ্ছে ডিম বিক্রি করে তা হচ্ছে না। কয়েক লাখ টাকা ঋণ করে খামার করেছি। এখন ব্যাপক লোকসানের আশংকায় খামার বন্ধ করার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাহিদ ইকবাল জানান, একটি ডিম উৎপাদন করতে ৪ টাকা খরচ হয়, আবার প্রায় একই দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ডিম। এতে খামারীদের লোকসানের আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন, সারাবছর একই রকম চাহিদা থাকে না, আর বিশেষ করে ডিম, মাছ ও মাংস একই ধরণের খাদ্য হওয়ার কারণে বর্তমানে একদিকে মাংসের দাম কমে যাওয়ায় মানুষ বেশি বেশি মাংস খাচ্ছে, অপরদিকে এই সময়ে এলাকায় মাছের আহরণও বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবে ডিমের চাহিদা কমে গেছে। তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মুরগী খামারীদের ডিম সংরক্ষণের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দেশীয় প্রযুক্তিতে চুনের পানি ও তেল দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ মাস ডিম ভালভাবে সংরক্ষণ করা যায়। বিষয়টি বিভিন্ন ভাবে খামারী মালিকদের উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মাধ্যমে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তবে এ ধরণের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে খামার মালিক হারান চন্দ্র মন্ডল জানান, মুরগী শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য দীর্ঘ মেয়াদী উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে ভারতীয় গরু আমদানী বন্ধ করতে হবে, সরকারিভাবে নির্মাণ করতে হবে সংরক্ষণাগার, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাসহ বিদেশে ডিম রপ্তানির জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

শেয়ার