‘সততায় বিশ্বে তৃতীয় শেখ হাসিনা, আর খালেদা ৩য় দুর্নীতিতে’

দেবু মল্লিক
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ‘আগামী ৩১ ডিসেম্বর যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা শুধু শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম নয়, পুরো শহর লোকে লোকারণ্যে পরিণত হবে। এই জনসভা শুধু একটি জনসভা নয়, হবে আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনী সভা। সেই জনসভা সফল করতে এখন থেকেই আমাদের সবাইকে কাজ শুরু করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যশোরের জনসভা সফল করতে গতকাল যশোর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য এসব কথা বলেন।
যশোর সিসিটিএস মিলনায়তনে প্রতিনিধি সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুর রহমান এমপি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এবং বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে একে অপরের প্রতি অভিযোগ অনুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের একজন নেতা বা কর্মীর কোন অনুযোগ নেই। কারণ তিনি প্রতিটি নেতাকর্মীর চোখ দেখে তার প্রয়োজন বুঝতে পারেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর জনসভার বার্তা নিয়ে, তার নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতে যাওয়া অত্যন্ত সহজ। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘুম কেড়ে নেয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। তারা সারা দেশে ধর্ষণ, লুটপাট, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের উৎসবে মেতে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আমূল পরিবর্তন এনেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের অতীত স্মৃতি উল্লেখ করে প্রধান বক্তা বলেন, ‘সব হারানোর তীব্র ব্যথা নিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি সেদিন লাখ লাখ মানুষের অভ্যর্থনা পেয়ে বলেছিলেন, ‘আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি লড়াই চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে বাবার মতো জীবন দেবো। কিন্তু সোনার বাংলার বিপক্ষে কারো সাথে আপোষ করবো না।’ প্রধানমন্ত্রী আজো তার কথা রেখেছেন। ইতিমধ্যে তাকে ১৯ বার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কারো সাথে আপোষ করেননি। জাতির জনকের হত্যার বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। সেই নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর যশোরের জনসভা থেকে।’
প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা খুন, ধর্ষণ, লুটপাটের বাংলাদেশ চাই না। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া যে বাংলাদেশ আমাদের উপহার দিয়েছিলেন। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। তাই আগামী ৩১ ডিসেম্বর শুধু যশোর স্টেডিয়াম নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা হবে পুরো যশোরে। সেদিন পুরো যশোর নৌকা, হাসিনা আর মুজিবের শ্লোগানে মুখরিত হবে। যার ঢেউ দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলায় গিয়ে পড়বে। শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা। এজন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের শেষ আশ্রয়। তার জনসভাকে সফল করতে আমাদের ক্ষোভ-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনসমাবেশের দিন পুরো যশোর হবে শেখ হাসিনার যশোর। জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে জন¯্রােত আসবে। আমরা ঐক্য সভার মাধ্যমে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের প্রমাণ করে দিতে চাই আমরা শেখ হাসিনার নামে ঐক্যবদ্ধ। তাদের আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। নির্বাচনে শেখ হাসিনা যাকে নৌকা দেবেন সবাই তাকে বিজয়ী করতে কাজ করবে। আমরা এই জনসভার মাধ্যমে প্রমাণ করবো আগামী নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসন আবারো শেখ হাসিনা জয়ী হবেন। যা হবে তার টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকার গঠনের সহায়ক।’
প্রতিনিধি সভায় আরেক বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, ‘শুধু উন্নয়ন করে ভোটে জয়ী হওয়া যায় না। উন্নয়ন ভোট চাওয়ার একটি উপায় তৈরি করে দেয়। গত ৯ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চেহারা বদলে দিয়েছেন। দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলেছেন। তিনি হয়েছেন বিশ্বের তৃতীয় সৎ সরকার প্রধান। আর আমাদের আরেক নেত্রী হয়েছেন বিশ্বের তৃতীয় দুর্নীতিবাজ। বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনই এমন বলছে। তাই দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আসছে নির্বাচনে আমাদের আবারো জয়ী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর নৌকার পক্ষে জনমত গড়তে হবে। আমি বিশ্বাস করি আগামী ৩১ ডিসেম্বরের জনসভা, শুধু একটি জনসভায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, রূপান্তর হবে নির্বাচনী জনসভায়।’
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী রায়হানের পরিচালনায় প্রতিনিধি সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান হুমায়ন, যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

শেয়ার