২৮ ডিসেম্বর যশোরে তিন দিনের আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা
দেড় লক্ষাধিক মুসল্লির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে উপশহর

এস হাসমী সাজু
যশোরে দ্বিতীয় বারের মত শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী অঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা। উপশহর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এলাকায় আগামী ২৮ ডিসেম্বর ফজরের নামাজের পরে আমবয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হবে এই ইজতেমা। ইতোমধ্যে ৬৫ ভাগ মাঠ প্রস্তুতের কাজ সম্পুন্ন হয়েছে। বাকি কাজ আগামী ৫/৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন ইজতেমার আয়োজকরা।
প্রতিবছর ঢাকার টুঙ্গি তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা। কিন্তু সেখানে লোকের সংকুলান না হওয়াসহ নিরাপত্তার কারণে ২০১৫ সাল থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব এলাকার তাবলিগ জামায়াকে দুইটি অংশে ভাগ করে আঞ্চলিক ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে যশোরে তিনদিনের আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা শুরু হতে যাচ্ছে। ইজতেমাকে ঘিরে এলাকায় চলছে উৎসবেব আমেজ। সেই সাথে প্রশাসন থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে ইজতেমার মাঠ ঘুরে দেখা গিয়েছে, উপশহর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, উপশহর ক্রীড়া উদ্যান, ডিগ্রি কলেজ, বাদশা ফয়সাল স্কুল, উপশহর পার্ক ও শাপলা কিন্ডার গার্ডেন মাঠজুড়ে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। মাঠে বাঁশের খুটি পোতাসহ বিভিন্ন কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবকরা। এছাড়া উপশহর পার্ক সংলগ্ন পুকুরে, ইউনিয়ন পরিষদের সামনেসহ ৮টি সুবিধামত স্থানে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য ওজু খানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বাদে বাদশা ফয়সল স্কুলের পিছনে ও ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম পাশে ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য বাথরুমের ব্যবস্থা করেছেন আয়োজক কমিটি। আগামী ৪/৫দিনের মধ্যেই ইজতেমার জন্য সকল মাঠ প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কথা হয় ইজতেমার আয়োজকদের একজন রেজাউল ইসলাম রাজুর সাথে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রথম ইজতেমায় কিছুটা ত্রুটি ছিল। তবে যশোরে দ্বিতীয় বার হচ্ছে ইজতেমা। তাই ঢাকা কাকরাইল মসজিদের মুরব্বিদের নিদের্শনা মতে, তিনিসহ সাত জনের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন ৪/৫শত স্বেচ্ছাসেবক মাঠ প্রস্তুতির কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ইজতেমায় বিদেশি মেহমান আসবে কি না সে বিষয়ে এখন বিস্তর কিছু বলা যাচ্ছে না, আসলে আলাদা থাকার ব্যবস্থা আছে। গত বারের ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের উপর ধারণা রেখে এবার ইজতেমার মাঠের এরিয়া বাড়ানো হয়েছে। এবার ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মুসল্লিদের ধারণ ক্ষমতা থাকলেও প্রায় দেড় লাখ মুসল্লি এই ইজতেমায় উপস্থিত হবেন। আমাদের প্রস্তুতিতে সেই বিষয়টি রয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠের প্রায় ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি আছে বাথরুম ঘেরা, তাবু টাঙ্গানোর এবং মাঠ জুড়ে বিদ্যুত সংযোগের কাজ।
এদিকে ইজতেমার আরেক জিম্মাদার আনছার আলী জানান, ইজতেমাকে ঘিরে প্রশাসন থেকে এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ইজতেমা এলাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে সবসময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাসহ প্রশাসনের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও জানান, পূর্বের মত এবার ইজতেমায় নারীদের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে কেউ বয়ান শুনতে ও দোয়াই অংশ নিতে নিজেদের উদ্যোগে এলাকার আশপাশের বাসাবাড়িতে অবস্থান নিতে পারেন।
উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু জানান, আল্লাহুর ইবাদতের জন্য বিপুল সংখ্যক মেহমান উপশহর এলাকায় আসবে এটা তো এলাকাবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। গতবারের চেয়ে এ বছর বেশি সংখ্যক মুসল্লি ইজতেমায় উপস্থিত হবে বলে তিনি আশা করছেন। এ বাদেও ইজতেমায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর আত্মীয়-স্বজন আসা শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, ইজতেমায় আগত মেহমানদের সুবিধার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পরিষদের পক্ষ থেকে ইজতেমা স্থল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নসহ বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনা করা হচ্ছে।

শেয়ার