যশোর, মণিরামপুর ও কেশবপুরে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়
বিএনপি নির্বাচনে না আসলে গণতন্ত্রের কী দোষ: সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনে না আসার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক অস্তিত্ব ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে না চাইলে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। এটাকে তারা পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না। তাহলে তারা আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য সাতক্ষীরায় যাওয়ার পথে যশোরের রাজারহাটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা বারবার বলেছি, নির্বাচনে বিএনপি আসুক; নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন কোনো নির্বাচন আমরা করতে চাইনি। কিন্তু বিএনপি একটা জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। আসবো আসবো করে বিএনপি ৫জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে একটা প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। কিন্তু আইনগতভাবে নির্বাচন কারো জন্যে থেমে থাকে না। নির্বাচনের ট্রেন চলবেই। গণতন্ত্রের যাত্রা ব্যাহত হওয়ার সুযোগ নেই। আর বিএনপি না আসলে নির্বাচন তো বন্ধ থাকতে পারে না। বিএনপি নির্বাচনে না আসলে গণতন্ত্রের কী দোষ!
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের সঙ্কট থাকলে, নির্বাচন সঠিক না হলে আইপিইউ ও সিপিইউ দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশে হতো না। এ কথা জিজ্ঞেস করলে বিএনপি নেতারা সে পথে হাঁটতে চান না। তারা মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজাতেই থাকে। তারা বলে, ‘গেল রে গেল, গণতন্ত্র গেল। গেল রে গেল, নির্বাচন গেল।’ আগে বলতো, ‘গেল রে গেল বাংলাদেশ ইন্ডিয়া হয়ে গেল।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক আমরা চাই। বিএনপি একটা বড় দল। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রবল হবে, এই সুযোগ বিএনপি হাতছাড়া করে ফেলেছে। বিএনপির দুর্নীতির কেচ্ছা কাহিনীর থলের বিড়াল মিউ মিউ করে বেরিয়ে আসছে। কাতার, সৌদি আরবের দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়েছে। কানাডার আদালত তো রায় দিয়েছে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন। তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর দুর্নীতির রায়ও হয়েছে। বাংলাদেশের আদালতেও অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের সাজা হয়েছে। এগুলোকে বিএনপি কী অস্বীকার করতে পারে? কানাডার, সিঙ্গাপুরের আদালতের রায়কে কি তারা অস্বীকার করতে পারে? শুধু দুর্নীতি না কানাডা বিএনপির এক নেতাকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। তারা বলেছে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না। কানাডা কি আমাদের সরকারের আদালত? নাকি সরকারি হস্তক্ষেপে এই রায় দিয়েছে কানাডা ?
মন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে একটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে ঢাকা শহরের কিলার গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপির সুইডেন প্রবাসী এক নেতা। দুই বছর আগে সুইডেনে পাঠিয়ে দেওয়া ওই নেতা ঢাকা শহরের কিলার নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে খুন গুমের সঙ্গে বিএনপি নেতার ওই কিলিং গ্রুপ জড়িত কি না ঘোরতর সন্দেহ হচ্ছে আমাদের।


যশোরের মহাসড়ক সম্পর্কে প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, যশোর-খুলনা মহাসড়ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই মহাসড়কের পালবাড়ি থেকে রাজঘাট পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার উন্নতকরণ, পুনর্নির্মাণ ও বর্ধিতকরণ করার জন্য ৩২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই কাজের দরপত্র মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। মূল্যায়ন শেষে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে এই নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এই মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি আমি জানি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করে সড়কটিতে যান চলাচল হচ্ছে। বহুবার আমি এই সড়কটি পরিদর্শন করেছি। পুনর্নির্মাণ শেষ হলে এই সড়কে চলাচলের সমস্যা দূর হবে।
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই সড়কটিও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কে প্রচুর ভারী যান চলাচলের কারণে রাস্তাটির পরিস্থিতি নাজুক। এজন্য এই সড়কও ভালভাবে নতুন করে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, এই সড়কের জন্যও ৩২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটির দরপত্রও মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে।
মন্ত্রী যশোর-নড়াইল সড়কের ১০ কিলোমিটার ও বাঘারপাড়ার ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে উল্লেখ করে জানান, এ জন্য ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ১৪ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ শেষে কাজ শুরু হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তব্য শেষে মন্ত্রী সড়ক পথে সাতক্ষীরার দলীয় সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি ও জনসভায় যোগদানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
মণিরামপুর থেকে মোতাহার হোসেন জানান, যশোরের কর্মসূচি শেষে মণিরামপুর হয়ে সাতক্ষীরায় যাচ্ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যাত্রাপথে তিনি মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি পথসভায় বলেন, ‘বিলবোর্ডে বড় বড় ছবি টাঙিয়ে, তোরণ দেখিয়ে, ফুল ছিটিয়ে ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দেখিয়ে আমার মন জয় করা যাবে না। এগুলো করে মনোনয়ন পাওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘জরিপ হচ্ছে, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় জরিপ করছেন। জনমতে যে এগিয়ে থাকবে, জরিপে যিনি এগিয়ে থাকবেন, তিনিই মনোনয়ন পাবেন। কারো সুন্দর মুখ, সুন্দর চেহারা দেখে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রার্থী যতো হোক অসুবিধা নেই। কেউ অসুস্থ প্রতিযোগিতা করবেন না, নিজেদের মধ্যে মারামারি করবেন না। প্রার্থী এখন কেউ নয়, প্রার্থী হচ্ছে নৌকা।’ বক্তব্য শেষে মন্ত্রীর হাতে নৌকার প্রতীক তুলে দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌরসভার মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান। এসময় মন্ত্রীকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধনের আহবান জানানো হলে তিনি অন্য সময় এসে অফিস উদ্বোধন করবেন বলে জানান। এসময় মন্ত্রীর সফর সঙ্গীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষক ফারুক হোসেন, শ্রমিকলীগ নেতা বাবুল করিম বাবলু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মিল্টন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মুরাদুজ্জান মুরাদ প্রমুখ।
এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) থেকে ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে যশোর ও মণিরামপুর হয়ে সাতক্ষীরা যেতে কেশবপুর আসলে নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। যাত্রাপথে কেশবপুর শহরের গাজী মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছানোসহ সকল রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হবে। ব্যানারে সৌন্দর্য্য দেখে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। পোস্টার- ফেস্টুনে ভোট হয় না। সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অযথা দলকে কলুষিত করবেন না। দলে প্রতিযোগিতা থাকবে। মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলবেন না। মানুষের উপকার করেন। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আগামী নির্বাচনে আমরা জয়ী হব ইন্শাল্লাহ।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি তপন কুমার ঘোষ মন্টু, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল, ত্রিমোহিনী ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, বিদ্যানন্দকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন দফাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুল, দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক পৌর কাউন্সিলর জামাল উদ্দীন সরদার, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক প্যানেল মেয়র বিশ্বাস শহিদুজ্জামান শহিদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু সাঈদ লাভলু, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক পলাশ মল্লিক, পৌর ছাত্রলীগের সবুজ হোসেন নিরব প্রমুখ।

শেয়ার