মণিরামপুরে ৫ দিনের ব্যবধানে গোপনে দুই স্কুল ছাত্রীর বিয়ে

ইউনুচ আলী, নেহালপুর (মণিরামপুর) ॥ মণিরামপুর বাজিতপুর (বিবিজিএইচএস) মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর ৫ দিনের ব্যবধানে বাল্যবিয়ে হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন তৃপ্তি রানী রায়। সেই ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী। অপরজন রিম্পা রায় জেএসসির ছাত্রী ছিল। বর্তমানে তারা স্কুল ছেড়ে স্বামীর ঘরে সংসার করছে। সচেতন মহলের অভিযোগ এসব বাল্যবিয়ে ঠেকাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন ভুমিকা রাখছে না। যেকারণে ঝিকরডাঙ্গা গ্রামে বাল্য বিয়ের হিড়িক পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাজিতপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের জেএসসির ছাত্রী ও ঝিকরডাঙ্গা গ্রামের সুশান্ত রায়ের মেয়ে রিম্পা রায় ৩ দিন ধরে স্বামীর ঘরে সংসার করছে। রোববার চৌগাছার রাঙ্গালী গ্রামের এক যুবকের সাথে তাকে বাল্য বিবাহ দেয়া হয়েছে। একই বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী ও ঝিকরডাঙ্গা গ্রামের সুজন রায়ের মেয়ে তৃপ্তি রানী রায় গত ৮ দিন ধরে স্বামীর ঘরে সংসার করছে। গত মঙ্গলবার শার্শার বন মান্দ্ররা গ্রামের সচিন রায়ের ছেলে সুব্রত রায়ের সাথে তাকে বিবাহ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের ঝুক্কি-ঝামেলা এড়াতে তাদের পরিবার গোপনীয়তা রক্ষা করে বিয়ে কার্য সম্পন্ন করেছেন। এলাকাবাসির দাবি, প্রশাসন এসব বাল্য বিয়ের ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন না করলে আরও অনেক শিশু ছাত্রীকে স্বামীর সংসারে যেতে হবে। গত বৃহস্পতি ও সোমবার স্থানীয় একটি দৈনিকে এই বাল্যবিয়ে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসন এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে ওই ছাত্রীদের পিতা সুজন রায় ও সুশান্ত রায়ের দাবি নানা কারণেই মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিতে হচ্ছে। তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও জলবায়ু আবহাওয়াকেও দায়ী করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য সনজিত রায় বলেন, বিয়েগুলো আমাদের অজান্তে হচ্ছে। বাজিতপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনজিত কুমার মন্ডল বলেন, আমি জানার পর বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যারকে বলেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যান সরদার বাহাদুর আলী বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ে পক্ষকে সতর্ক করাসহ তিরস্কার করেছি। বাল্য বিয়ের ব্যাপারে কাউকে তার কোন ছাড় নেই। ঘটনার ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মুহাম্মাদ ওবায়দুর রহমান মুঠো ফোনে বলেন, বিয়ে গুলো বাইরে হয়েছে। তাই ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।

শেয়ার