বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বীর বাঙালী। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই কার্যত স্বাধীন। বিশ্বের মানচিত্রে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের দেশটি জন্মের ঠিক আগ মুহূর্তে পাক হানাদারদের পক্ষে নগ্ন হয়ে মাঠে নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রভাবশালী এই দুটি দেশ পাকিদের পরাজয় ঠেকাতে মরিয়া। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে এ দুটি দেশের শেষ চেষ্টা আবারও ব্যর্থ হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বক্তব্যের পর অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যায়।
১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১। একাত্তরের রক্তঝরা এ দিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান টেলিফোন করে জেনারেল নিয়াজীকে আশ্বস্ত করেন, ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ উভয়দিক থেকে বন্ধুরা এসে পড়বেন। গুল হাসানের কাছ থেকে এ আশ্বাস শুনে ঢাকায় পাকিস্তানী সামরিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্রতিরক্ষার আয়োজন নিরঙ্কুশ করতে ২৪ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এ দেশীয় দোসর আলবদর বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহানুভূতিশীল পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের আটক ও হত্যা শুরু করে।
চীন এ সময় পাকিস্তানী ঘাতকদের সমর্থনে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজকের দিনে পিকিং রেডিও ঘোষণা করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের মাধ্যমে মূলত চীনকেই দমন করতে চায়। বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারকেই ভারতের মাধ্যমে ‘তথাকথিত’ বাংলাদেশ সমর্থনের অন্যতম কারণ। এছাড়াও আজকের এ দিনে চীনা প্রতিনিধি হুয়াং হুদা নিউইয়র্কে আলেকজান্ডার হেগকে জানান, চীন কেবল আরেকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহী। উপমহাদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কিন্তু চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতসহ মিত্র দেশগুলো।
চারদিকে শুধুই মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়, আর পাক হানাদারদের পরাজয়ের খবর। একাত্তরের এদিনে গাইবান্ধা, নরসিংদী, সরিষাবাড়ী, ভেড়ামারা, শ্রীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হয়। ঢাকাবাসী এ সময় রয়েছেন অভীষ্ট আনন্দ আর অজানা আশঙ্কার এক অদ্ভুত দোলাচলে। অতি কট্টোর পাকিস্তান সমর্থকরাও এখন আর দেশটির অখন্ডতা সম্পর্কে বড় কথা বলার সাহস দেখাচ্ছে না। স্বাধীনতার ওই মাহেন্দ্রক্ষণটি কখন আসবে তা দেখতে অধির অপেক্ষায় ঢাকাবাসী।

শেয়ার