চার্লস-ম্যাককালাম ঝড়ে ফাইনালে রংপুর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ এবারের বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের সবচেয়ে বড় হতাশা ছিলেন দুজন। কিন্তু এক ম্যাচেই যেন সব পুষিয়ে দিলেন জনসন চার্লস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুজনের ব্যাটেই উঠল ঝড়। সেই প্রবল হাওয়ায় উড়ে গেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

দ্বিতীয় দিনে গড়ানো বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সোমবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৩৬ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে রংপুর রাইডার্স। বিপিএলের পাঁচ আসরে এ নিয়ে চতুর্থবার ফাইনাল খেলার স্বাদ পাচ্ছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
চার্লসের অপরাজিত সেঞ্চুরি ও ম্যাককালামের ছক্কার ঝড়ে রংপুর তোলে ২০ ওভারে ১৯২ রান। শুরুটা ভালো করলেও কুমিল্লা শেষ পর্যন্ত করতে পারে ১৫৬ রান।
এবারের আসরে এই ম্যাচের আগে ১০টি ম্যাচ খেলেছিলেন ম্যাককালাম, চার্লস ৫টি। দুজনই ছিলেন ভীষণ বিবর্ণ। দুজন একসঙ্গে উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন এমন দিনে, যেদিন খুব করে চাইছিল দল।
ক্রিস গেইল ব্যর্থ হওয়ার পর দল বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের জন্য তাকিয়ে ছিল তাদের দিকে। ৬৩ বলে ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন চার্লস। ৪৬ বলে ৯ ছক্কায় ৭৮ ম্যাককালাম।
দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে গড়েছেন বিপিএলের রেকর্ড ১৫১ রানের জুটি। রংপুর জয়ের ভিত গড়ে ফেলে এই জুটিতেই।
আগের দিন খেলা বন্ধ হওয়ার সময় রংপুরের রান ছিল ৭ ওভারে ১ উইকেটে ৫৫। নতুন দিনে নতুন করে থিতু হতে হয়েছে অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যানকে। দুজনই তাই সময় নিয়েছেন একটু। ২৬ বলে ৪৬ রানে আগের দিন থমকে যাওয়া জনসন ফিফটি করেন ৩৪ বলে।

প্রথম দুই ওভারে রান আসে ৬। ৯ ওভার শেষে রান ছিল ১ উইকেটে ৬১। দশম ওভারে গ্রায়েম ক্রেমারকে ছক্কায় ম্যাককালাম দেন আক্রমণের প্রথম ইঙ্গিত। সেই ওভারেই ছক্কায় সঙ্গত ধরেন চার্লস। তুমুল গতিতে ছুটতে থাকে রংপুরের রানের চাকা।

চার-ছক্কা আসতে থাকে প্রতি ওভারেই। দুজনের টর্নেডো ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় ছিলেন কুমিল্লার সব বোলারই। তাদের সেরা বোলার হাসান আলিও ম্যাককালামের ব্যাটে হজম করেন দুটি ছক্কা।

শেষ পর্যন্ত ম্যাককালামকে বোল্ড করে এই জুটি ভেঙেছেন হাসানই। তবে ততক্ষণে কুমিল্লার বোলিং তছনছ ফেলেছেন সাবেক নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক। চার মেরেছেন মাত্র একটি, কিন্তু ছক্কা ৯টি! ৪৬ বলে করেছেন ৭৮।

চার্লস তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ইনিংস শেষের আগের বলে সাইফ উদ্দিনকে বাউন্ডারি মেরে। ইনিংস শেষ করেন শেষ বলেও বাউন্ডারি মেরে। প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে অপরাজিত ৬৩ বলে ১০৫ করে। ৯টি চারের পাশে ইনিংসে ছক্কা ৭টি।

কুমিল্লার রান তাড়ার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। তামিম ইকবাল ও লিটন দাস উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ তুলে ফেলে ৪.২ ওভারেই।

জুটি ভেঙে রংপুরকে স্বস্তি দেন অধিনায়ক নিজেই। অ্যাঙ্গেল বদলে রাউন্ড দা উইকেটে এসে প্রথম বলেই মাশরাফি ফেরান তামিমকে। কুমিল্লা অধিনায়ক করেছেন ১৯ বলে ৩৬।

তিনে নামা ইমরুল কায়েস ফিরেছেন পরের ওভারেই। বড় ভরসা শোয়েব মালিক ক্যাচ দিয়েছেন ছক্কার চেষ্টায়।

১১ রানে সহজ ক্যাচ দিয়েও নাহিদুলের হাতে বেঁচে যাওয়ার পর লিটন খেলছিলেন ভালোই। কিন্তু বড় কিছু করতে পারেননি তিনিও। ফিরেছেন ২৮ বলে ৩৯ করে।

শেষ ৬ ওভারে কুমিল্লার প্রয়োজন ছিল ৮৭। জস বাটলার ক্ষণিকের জন্য আলোড়ন তুললেও ফিরে যান ১৬ বলে ২৬ করে। ২৭ রান করতে স্যামুয়েলস খেলে ফেলেন ৩০ বল।

শেষ দিকে রুবেল হোসেন ও ইসুরু উদানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে কুমিল্লা যেতে পারেনি কাছেও।

আগের দিন অনেক নাটকের পর রিজার্ভ ডেতে গড়ানো ম্যাচ শেষ পর্যন্ত হলো না খুব নাটকীয়। প্রাথমিক পর্বের সেরা দল কুমিল্লা উঠতে পারল না টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার মঞ্চে।

উল্টো পিঠে রংপুর। এক সময় ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা থেকে এখন তারা শিরোপার মঞ্চে। পাঁচ আসরে চতুর্থ শিরোপার হাতছানি অধিনায়ক মাশরাফির সামনে!

শেয়ার