লিবিয়া প্রবাসী হবিগঞ্জের যুবককে জিম্মি করে মুক্তিপণের টাকা আদায়

মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর ॥ সিজিল মিয়া নামে লিবিয়া প্রবাসী যুবককে সেদেশে জিম্মি করে বিকাশ নম্বরে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের অভিযোগে মণিরামপুর থেকে এক নারী ও এক যুবককে আটক করেছে হবিগঞ্জ জেলার পিবিআই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন। ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মণিরামপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়। আককৃকতরা হলো পৌর এলাকার র্গাপুর গ্রামের ডাঃ আব্দুল আজিজের ছেলে এনামুল হক রাজু ও রুহুল আমিনের স্ত্রী নাজমা খাতুন। লিবিয়া প্রবাসী ওই যুবক হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার আব্দুল আওয়ালের ছেলে। এ ঘটনায় যুবকের পিতা বাহুবল থানায় ১০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৭। তারিখ ০৬-১২-১৭ইং।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা হবিগঞ্জ জেলার পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশন) ইন্সপেক্টর মাইনুল ইসলাম জানান, কাজের সন্ধানে বছর তিনেক আগে ওই যুবক লিবিয়ায় যায়। লিবিয়া প্রবাসী অপর এক যুবক সিরাজগঞ্জ জেলার জনৈক রহুল আমিনের সাথে সম্প্রতি সিজিল মিয়ার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে সিজিল মিয়াকে কৌশলে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে রুহুল আমিন। জিম্মিদশায় নিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে সিজিল মিয়াকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায় রুহুল আমিন তাকে দিয়ে (সিজিল মিয়া) পরিবারের কাছে ফোন করিয়ে তার ( রুহুল আমিন) দেয়া বাংলাদেশের বিকাশ নম্বরে মুক্তিপণের টাকা দিতে বলে। টাকা না দিলে যুবক সিজিল মিয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ছেলের প্রাণ রক্ষার্থে রুহুলের দেয়া বিকাশ নম্বরে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পাঠায় সিজিল মিয়ার পিতা। পরে এ ঘটনায় সিজিলের পিতা আব্দুল আওয়াল গত ৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানায় মামলা দায়ের করেন। যার তদন্তভার হবিগঞ্জের পিবিআই-এর উপর ন্যস্ত করা হয়।
টাকা পাঠানো বিকাশ নম্বর ও উত্তোলনকারির খোঁজে নেমে পড়েন তদন্তকারি কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মাইনুল ইসলাম। বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে তদন্তকারি কর্মকর্তা চলে আসেন মণিরামপুরে। গত ৯ ডিসেম্বর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিকাশ নম্বরের মালিক মণিরামপুর পৌরশহরের ডাঃ আব্দুল আজিজের ছেলে এনামুল হক রাজুকে আটক করেন। এরপর তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক টাকা উত্তোলনকারি রুহুল আমিনের স্ত্রী নাজমা খাতুনকে পৌর এলাকার মোহনপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয়। ওইদিনই আকককৃতদের হবিগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আরো জানান, রোববার তাদেরকে হবিগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকাররম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মানবপাচার এবং জিম্মি করে মুক্তিপণের টাকা নেয়ার অপরাধে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

শেয়ার