বাধা পেরিয়ে নারীদের অধিকার আদায়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাধা পেয়ে থেমে না থেকে তা অতিক্রম করে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘রোকেয়া পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।
বাংলার নারী জাগরণের প্রতীক বেগম রোকেয়ার নামে প্রবর্তিত এই পদক এবার পেয়েছেন সাংবাদিক বেবী মওদুদ (মরণোত্তর), চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান, লেখক শোভা রানী ত্রিপুরা, সংগঠক মাজেদা শওকত আলী, সমাজকর্মী মাসুদা ফারুক রতœা।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা চাই আমাদের দেশে সবাই; আমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে মিলে এদেশকে উন্নত করার কাজে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করব।
“মেয়েদেরকেও ভাবতে হবে তার যে মেধা, তার যে শক্তি সেটাকে যেন বিকশিত করা যায়। সেটা নিজেদেরও উদ্যোগ নিতে হবে। কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চলতে হবে।”
নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজনৈতিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সরকার প্রধানের আসনে আসীন শেখ হাসিনা অন্য নারীদেরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
“কিছু বাধা তো থাকে, বাধা তো আসবে। সেই বাধা অতিক্রম করে নিজেদের এগিয়ে যেতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার চরণ ‘বিশ্বের যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’ উদ্ধৃত করে বলেন, “কথাটা তো বাস্তব।” এক্ষেত্রে বেগম রোকেয়ার কাজে তার স্বামীর উৎসাহ দেওয়া এবং বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রামে পাশে থেকে তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
“আবার নারীরা পাশে না থাকলে পরে শুধু পুরুষরা সমাজকে গড়ে তুলবে এটা কখনও হয় না। কারণ যে সমাজে নারী-পুরুষ অর্ধেক, সেখানে সকলকে সমানভাবে একটা সমাজকে গড়ে তোলা ও উন্নত করার জন্য প্রয়োজন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। কিন্তু সেই বাস্তবতাটা স্বীকার করতে অনেক সময় লেগেছে।”

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বহু নারীর আত্মত্যাগ, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার কথাও বলেন তিনি।
নারীদের উচ্চপদে যাওয়ার জন্য রেকেয়ার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের জগতে কিন্তু আমরা সেই অন্ধকারের অচলায়তন ভেদ করে আলোর যুগে প্রবেশ করেছি এবং বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।
“তিনি (বেগম রোকেয়া) স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই কিন্তু আজকে আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি।”
এসময় শেখ হাসিনা তার সরকারের শাসনামলে দেশের নারী উন্নয়নে চিত্র এবং নারীর ক্ষমতায়নে তার সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
দেশে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, স্কুল-কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিমান বাহিনীর পাইলট থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সর্বত্রই নারীদের পদচারণা এবং বিচার বিভাগ, প্রশাসন, তথ্য-প্রযুক্তি, সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ বিভিন্ন চ্যালেজ্ঞিং পেশাতেও নারীদের কাজের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন, মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৬ মাস করা, সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা, সংসদে সংরক্ষিত আসন বাড়িয়ে ৫০ করা, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩ এর খসড়া প্রণয়ন করা, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৪ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা, যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ সংশোধন করে যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৫ প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৮৮ জন নারীকে সেবা প্রদান করার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সম্মৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমাজে একেবারে নিচুস্তরের অবহেলিত যে জনগোষ্ঠী, আমাদের সকলের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ভেতর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে সহযোগিতা করা।
“সেটা সকলে মিলে করলে নিশ্চয়ই এই সমাজ গড়ে উঠবে।”

শেয়ার