দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দুবলার শুটকি পল্লীতে কোটি টাকার মাছ নষ্ট

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নি¤œচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিনের দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে দুবলারচরের বিভিন্ন শুটকি পল্লীতে মাছ শুকাতে পারেনি জেলে-মহাজনরা। একদিকে রোদ না থাকা অপরদিকে কুয়াশা ও বৃষ্টিতে মাছ শুকাতে না পারায় ইতিমধ্যেই প্রায় কোটি টাকার কাচা মাছ নষ্ট হয়েছে। দুবলা ফরেস্ট ক্যাম্প ইনচার্জ ফরেস্ট রেঞ্জার কাজী মোকাম্মেল কবির এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ আহরণে যেতে পারছে না গভীর সমুদ্রে। নানা প্রতিকুলতা ও একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলে-মহাজনরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থসহ গত বছরের চেয়ে এবছর দুবলার শুটকি খাত থেকে মোটা অংকের রাজস্ব ঘাটতির আশংকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বন বিভাগ ও জেলে-মহাজন সূত্র জানাগেছে, বঙ্গোসাগর পাড়ের সুন্দরবনের দুবলার চরে এখন মাছ শুকানোর পুরো মৌসুম চলছে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ হঠাৎ নি¤œচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়-বৃষ্টিতে মাছ ধরা ও শুটকিকরণের কাজ ব্যহত হয়ে থাকে। দুবলার নিয়ন্ত্রণাধীন আশপাশের ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৩টি চরের কয়েক হাজার জেলে ও শতাধিক মহাজন এই শুটকি কারবারের সাথে জড়িত রয়েছেন। এসব চরে উৎপাদিত শুটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী হয়ে থাকে। আর বন বিভাগ মাছের এই শুটকি পল্লী থেকে প্রতি মৌসুমে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। রাজস্বের এ পরিমাণ কম-বেশি নির্ভর করে আবহাওয়ার উপরই।
মহাজনদের ডিপু (মাছ কেনার ঘর) ম্যানেজার ফরিদ ও রায়হান বলেন, গত ৩ দিনের (বৃহস্পতি থেকে শনি) দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় জেলেরা সব জাল-নৌকা নিয়ে চরে অলস বসে রয়েছেন। মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। আর আগের মাছ রোদের অভাব ও বৃষ্টির কারণে শুকানোও যাচ্ছে না।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বুদ্ধিমত্তার সাথে সকল প্রকার ঝড়-ঝাপটা মোকাবেলা করেই নিরাপদে থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে রাজস্ব আদায়ে সচেষ্ট থাকতে দুবলা ফরেস্ট ক্যাম্প ইনচার্জসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শেয়ার