আজ নড়াইল মুক্ত দিবস

নড়াইল প্রতিনিধি ॥ আজ ১০ ডিসেম্বর নড়াইল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে নড়াইলের মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা এইদিনে সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে নড়াইলকে হানাদারমুক্ত করে। সেই থেকে দিনটিকে মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করে আসছে নড়াইলবাসি। এদিকে নড়াইল মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা প্রশাসন নানা কর্মসুচির আয়োজন করেছে। কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে মু্িক্তযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, বধ্যভূমি ও গণকবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া অনুষ্ঠান, র‌্যালি এবং একাডেমিতে আলোচনা সভা। এছাড়া চিত্রা থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিনটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করেছে।
১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল সকালে পাক হানাদার বাহিনী দুটি জেট বিমান হতে নড়াইল শহরের ওপর ব্যাপক ভাবে মেশিনগানের গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে প্রচুর ক্ষতি সাধন করলে নড়াইল শহর জনমানবশুন্য হয়ে পড়ে। ১৩ এপ্রিল হানাদার বাহিনীর একটি দল নড়াইল শহরের চৌরাস্তায় রেস্টুরেন্ট মালিক মন্টুকে গুলি করে আহত করে এবং হরিপদ সরদার, ভাটিয়া গ্রামের কালু বোস, সরসপুর গ্রামের প্রফুল্য মিত্রকে ধরে নিয়ে দাইতলা পুলের নিকট গুলি করে ফেলে রেখে চলে যায়। এদিকে লোহাগড়ার ইতনা ও আড়িয়ারায় মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শিবির খোলার কারনে মধুমতি-নবগঙ্গা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের ভাটিয়াপাড়াস্থ হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প হতে পাক সৈন্যরা তাদের দোসরদের সহযোগিতায় গানবোট যোগে ২৩ মে ইতনা গ্রামে ঢুকে নৃশংস অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের ১৯ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে।
নড়াইল চিত্রা নদীর পাড়ে (প্রধান ডাকঘরের পার্শে) ৩ সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে পাকস্তানী মিলিটারি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা। এছাড়া নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর গ্রামের তরফদার পরিবারের স্কুল শিক্ষক আতিয়ার রহমান তরফদার, আব্দুস সালাম তরফদার, রফিউদ্দিন তরফদার, মাহতাব তরফদার ও আলতাব তরফদার এবং মোকাম মোল্যা, কাইজার মোল্যা ও মকবুল হোসেন সিকদারকে ধরে এনে নড়াইল শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেতরে গণ-কবর দেয় পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা।
৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী এসএম ফজলুর রহমান জিন্নাহ’র নেতৃত্বে নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজের দক্ষিণে মাছিমদিয়া গ্রামে সমবেত হয়ে পুলিশ-রাজাকারদের উপর অতর্কিত হামলা চালালে ওই দিনের যুদ্ধে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা লোহাগড়ার জয়পুরের মিজানুর রহমান হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। মিজানুর রহমানের মৃতদেহ হানাদার বাহিনীর দোসররা হাত-পা বেঁধে বাঁশে ঝুলিয়ে নড়াইল শহর প্রদক্ষিণ করে কৃতিত্ব দেখায় এবং ছবি তোলে।
এ ঘটনার পর ৯ ডিসেম্বর বিজয়ের তীব্র আকাঙ্খা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাংলোতে অবস্থানরত ৪০ জন পাক মিলিটারিকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেন। তারা আত্মসমর্পনে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় মুক্তি বাহিনীর সদস্যরা চতুর্দিক থেকে প্রচন্ড গোলাবর্ষন শুরু করলে পাক মিলিটারিরা আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। এখানে একজন পাক মিলিটারি নিহত হয় এবং অন্যদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। শীতের রাতে প্রবল শীতকে উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধারা সারারাত শহরে বিজয় উল¬াস করতে থাকে ও জয় বাংলা শ্লোগানে শ্লোাগানে শহর প্রকম্পিত করে তোলে এবং ১০ ডিসেম্বর দুপুর একটা ১৫ মিনিটে নড়াইলকে পাক হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে।

শেয়ার