স্বর্ণের বার পাচারের রুটে পরিণত বেনাপোল দশদিনে পৌনে ৪ কোটি টাকার সোনা জব্দ

এম এ রহিম, বেনাপোল ॥ সোনা পাচারের রুটে পরিণত হয়েছে বেনাপোল। গতকালও বেনাপোল সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাচারকালে সোয়া ৪ কেজি ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত দশ দিনে এই সীমান্ত এলাকায় ৭৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার হলো। যার ওজন সোয়া ৮ কেজির বেশি এবং দাম পৌনে ৪ কোটি টাকা।
শুক্রবার যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে বেনাপোল স্থলবন্দরের ২নং গেট এলাকা থেকে ৪ কেজি ২৮০গ্রাম ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ ইমরান হোসেন ও বিল্লাল হোসেন নামে দু’জনকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ইমরান বেনাপোল পুটখালি গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং বিল্লাল হোসেন একই গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা বহনকারী; প্রকৃত মালিককে আটক করতে পারিনি বিজিবি।
যশোরস্থ ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক জানান, শুক্রবার সকালে বেনাপোল পুটখালি সীমান্ত দিয়ে বৃহৎ একটি স্বর্ণের চালান ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে জানতে পারে বিজিবি। এখবরে বিজিবি বেনাপোল বন্দর ২ নং গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২জনকে আটক করা হয়। তাদের শরীরে বাধা অবস্থায় ২৬পিস স্বর্ণ পাওয়া যায়। যার ওজন ৪কেজি ২৮০ গ্রাম। দাম প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। সোনাসহ আটক দুই জনকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সোনার প্রকৃত মালিককে খুঁজছেন তারা। গত ২ মাসের ব্যবধানে প্রায় ১১ কেজি স্বর্ণের বারসহ ৫জনকে আটক করলো বিজিবি। এর মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা। তার দাবি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি নজরদারি বাড়ানোর ফলে কমছে চোরাচালান। আটক হচ্ছে স্বর্ণ, অস্ত্র ও মাদকের চালান।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বেনাপোল বন্দর থেকে স্বর্ণ পাচারকারী একটি চক্রকে আটক করে কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ে ভারতীয় পাসপোর্টধারী তিন নাগরিক ভারতের ২৪ পরগণা জেলার গৌরিশেল এলাকার ধিরেন্দ্র নাথের ছেলে দিমান সরকার (৪০), ভারতের উত্তর প্রদেশের মাদিয়া এলাকার বিরেন্দ্র সিংহের ছেলে নিতাই সেন (৩২) ও ২৪ পরগণা জেলার মালপাড়া এলাকার বিরবুলাল সাহার ছেলে মাহেশ লাল সাহা (৩৫)। উদ্ধার হয় ১৭টি স্বর্ণের বার। যার ওজন প্রায় ১ কেজি, দাম প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।
এর আগে ১ ডিসেম্বর বেনাপোল চেকপোস্টে র্স্বণের বারসহ ধরা পড়ে আরও দুই ভারতীয় নাগরিক। ভারতের দিল্লির উত্তম নগর এলাকার মাহেন্দার বর্মার ছেলে সঞ্জিব বর্মা (৪৮) ও কলকাতার ইকবালপুরের নূরুল হকের ছেলে নসরুল হক (৩৬) ভারতে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তাদের শরীরে তল্লাশি চালিয়ে পেটের মধ্য থেকে স্বর্ণের ২০টি বার উদ্ধার করা হয়। এই স্বর্ণের ওজন প্রায় দুই কেজি, দাম প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
গত ২৯ নভেম্বরও ধরা পড়ে স্বর্ণের আরেকটি চালান। ভারতগামী পাসপোর্টধারী দুই যাত্রী শরীয়তপুরের হাজি সাফদার মাতবরকান্দি উপজেলার নাওডুবা জাজিরা গ্রামের ইব্রাহিম মাতব্বরের ছেলে ইলিয়াজ (৪২) ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর খানের ছেলে মোহাসিন খান(৪৫) কে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা সদস্যরা। উদ্ধার করা হয় ১০টি স্বর্ণের বার। প্রায় ১ কেজি ১শ’ গ্রাম ওজনের এই সোনার দাম ৫০ লাখ টাকা।

শেয়ার