যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিট দাঁত তোলা আর ব্যথার চিকিৎসা ছাড়া বহিঃবিভাগে মেলে না উন্নত সেবা

এস হাসমী সাজু: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটে দাঁত তোলা আর ব্যথার চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোন সেবা মিলছে না। রোগী সংখ্যা বিবেচনায় চিকিৎসকের একটি পদের বিপরীতে প্রেষণে অতিরিক্ত দুইজন চিকিৎসক থাকলেও নির্ধারিত সময়ে বহিঃবিভাগে না আসায় ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। বাধ্য হয়ে অনেকে যাচ্ছেন ক্লিনিকে। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। তিনি বলেন, ‘ডেন্টাল রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে যশোর ছাড়াও আশপাশের নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ এই প্রতিষ্ঠানে ছুটে আসেন। ২০০৩ সালে হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলে ডেন্টাল বিভাগ চালু হয়। শুরু থেকে একটি পদের বিপরীতে চিকিৎসক হিসেবে ডা. কাজী শামীম আহম্মেদ দায়িত্ব পালন করছেন। এসময় সরকার থেকে সরবরাহ করা হয় একটি করে এক্স-রে মেশিন ও ডেন্টাল টেবিল। তবে সময়ের সাথে সাথে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনা করে ২০১৩ সালে আরো একটি ডেন্টাল হাইড্রোলিক টেবিল সংযোজন করে। প্রেষণে চিকিৎসক হিসেবে হাসপাতালে যোগ দেন ডা. মাহাবুবুর রহমান ও ডা. মাহাফুজা শারমীন। ২০১৩ সালে হাসপাতালের একমাত্র ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট ফরিদ আহম্মেদ অবসরে গেছেন। পদটি সেই থেকে খালি আছে। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকার পরেও রোগীরা এখান থেকে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেনাল হাসপাতালের বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আনোয়ারা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, শাওন মাহমুদ ও আব্দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে বহিঃবিভাগে এসেছি। কিন্তু চিকিৎসক না থাকার কারণে দাঁত তুলাতে আমাকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
জানা গেল, দাঁতের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের প্রথমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেন না। ইন্টার্নি চিকিৎসকরা তাদের ব্যবস্থাপত্র দেন। এসময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হাসপাতালে উপস্থিতও থাকেন না। তারা অধিকাংশ দিন সাড়ে ১১ টার পর হাসপাতালে আসেন। ফলে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ক্লিনিকে যান।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মাসের ১ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বহিঃবিভাগ থেকে এক হাজার ১৬ জন রোগী দাঁতের চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ৬৮ জন রোগীর দাঁত তোলা হয়েছে। আর বাকি সবারই দাঁতে ব্যথাজনিত সমস্যা ছিলো। এর বাইরে রুট ক্যানেল, দাঁতের স্কেলিং, ভেঙে যাওয়া দাঁতে রুট ক্যাপ পরানো রোগীরা এখানে কোন চিকিৎসা সেবা পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা বিভিন্ন ক্লিনিকে সেবা নিয়েছেন। যশোরের উপশহর এলাকার রওশন আরা বেগম বলেন, ‘আমার সাত বছর বয়সী মেয়ে নূরের দাঁতে ব্যাথা হয়। যশোর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মাহাবুবুর রহমান তার চেম্বারে নিয়ে দাঁতের পাথর অপসারণের পরামর্শ দেন। সেখানে এক হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি।’
এবিষয়ে ডেন্টাল সার্জন ডা. কাজী শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে আমি প্রতিদিন বেশি রোগী দেখতে পারি না। এছাড়াও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জামাদির সরবরাহ না থাকায় উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।’
প্রেষণে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসা ডা. মাহাফুজা শারমীন বলেন, ‘সরকার থেকে এক্স-রে মেশিন ও ডেন্টাল টেবিল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু এক্স-রে ফ্লিম, স্কেলিং পেস্ট, ডেন্টাল পালিশিং মেশিন, জেল ও ব্রাশ, রুট ক্যানেল ক্যাপ, কৃত্রিম দাঁতের সরবরাহ নেই। এজন্য দাঁতে ব্যথা ও রক্তপড়া সমস্যা ছাড়া তেমন কোন সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে এখানে প্রয়োজনে রোগীদের দাঁত তোলা হয়।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু বলেন, ‘আমি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করার পর ডেন্টাল বিভাগের নানা সমস্যার কথা জেনেছি। রোগীরা যাতে উন্নত চিকিৎসা সেবা পায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি।’