ঝিনাইদহে ধানের ম্যাট টাইপ চারা উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে
# রোপন মেশিনকে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ মনে করছেন কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঝিনাইদহে প্লাস্টিকের ট্রে-তে ধানের ম্যাট টাইপ চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা অত্যাধুনিক মেশিনের (রাইস ট্রান্সপ্লান্টার) মাধ্যমে জমিতে রোপন করা হচ্ছে। এই রোপন পদ্ধতি নিয়ে কৃষকদের মাঝে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। আরও জনপ্রিয়তা সৃষ্টির জন্য বিনামূল্যে বীজ সরবারহের মাধ্যমে কাজ করছে আর্ন্তজাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) বাংলাদেশ।
রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে গতকাল শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান গনি সারটিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মপুরে ধানের ম্যাট টাইপ চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় ইরি-বাংলাদেশ কনসালটেন্ট লতিফুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
ইরি-বাংলাদেশ কনসালটেন্ট লতিফুল বারী জানান, ‘এ পদ্ধতিতে ধান চাষে কৃষকের শ্রম, অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে এবং প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় বিঘা প্রতি ফলনও পাবেন বেশি।’ তিনি আরও জানান, ‘ঝিনাইদহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী ধানের যান্ত্রিক রোপণের জন্য বিরি ধান ৫৭, ৬২, ৭০ ও ৭২ জাতের ধান বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ধানের ম্যাট টাইপ চারা উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ে ১৫টি পরিবারের ৩০ জন লোকাল সার্ভিস প্রভাইডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিকের ট্রেতে ইতিমধ্যে তারা ১০ একর জমির জন্য ম্যাট টাইপ চারা উৎপাদন করেছেন এবং আরো ২০ একর জমির জন্য ম্যাট টাইপ চারা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এই পদ্ধতিতে ৪ জন শ্রমিক একটি মেশিনের মাধ্যমে দিনে আড়াই থেকে ৩ একর জমিতে গ্যাপ ফিলিংসহ ধান রোপন করতে পারেন। অন্যদিকে একই পরিমান জমিতে হাতে চারা রোপন করতে লাগে ৩০ হতে ৩৬ শ্রমিক। গবেষণা অনুযায়ী, ধানের যান্ত্রিক রোপণে প্রচলিত রোপণ পদ্ধতির তুলনায় শতকরা প্রায় ৯-১৪ ভাগ ফলন বেশি পাওয়া যায়। এতে সময়ও বাঁচবে, কমবে উৎপাদন খরচও।’
শৈলকুপা ব্রাহ্মপুরের চাষী মাসুদ রানা জানান, ‘যশোর বাঘারপাড়ার খালিয়াতে এ মাসের মাঝামাঝিতে একই পদ্ধতিতে চারা রোপন শুরু হয়েছে। তাদের কথা জানতে পেরে আমরাও উৎসাহ বোধ করেছি।’ তিনি আরও জানান, ‘এ সময়টাতে প্রতি বছর পাট ও আউস ধান কাটার কাজ চলে। চাষের সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা (জন) ফসল কাটা, বহন করে নিয়ে যাওয়া এবং মাড়াইয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ফলে প্রতি বছর এই সময় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। বিরি ধান চাষে মেশিনটির (রাইস ট্রান্সপ্লান্টার) মাধ্যমে কম মূল্যে, কম সময়ে অনেক বেশি জমিতে চারা রোপন করতে পারলাম।’ খরচের প্রশ্নে তিনি জানান, ‘হাতে চারা রোপনে এক বিঘায় কম পক্ষে ৪ জন শ্রমিক লাগে। এতে কমপক্ষে ১ হাজার ৬শ’ টাকা ব্যয় হতো। মেশিনে ব্যয় হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা।’ উপস্থিত অন্যান্য কৃষকরা মেশিনটিকে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ মনে করছেন।

শেয়ার