কালীগঞ্জে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও
মেয়ের পিতাকে জরিমানা, চাচার জেল

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ ॥ গেট-প্যান্ডেলসহ সবকিছুই করা হয়েছিল প্রস্তুত। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তার বিয়ের আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। চলছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়া দাওয়ার পর্ব। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাদেকুর রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশ নিয়ে গিয়ে বন্ধ করেন বিয়েটি। এ সময় মেয়ের পিতা বিল্লাল হোসেনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি এবং সরকারি কাজে বাধা দেবার অপরাধে মেয়ের চাচা জালাল উদ্দীনকে ৭ দিনের কারাদন্ড দেন।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ও ফয়লা হাসপাতাল রোডের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে মুক্তার সাথে চুয়াডাঙ্গা জেলার আজিজুল ইসলামের ছেলে ইকবাল হোসেনের বাল্য বিয়ে দেয়া হচ্ছিল। গোপন সুত্রে বাল্য বিয়ের এ খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এ সময় মেয়ের চাচা জালাল উদ্দীন মুক্তার বাল্য বিয়ে দেয়া হচ্ছে না জানিয়ে তার নিজের মেয়ে জলির বিয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান। বিষয়টি যাচাই বাছাইয়ের পর ঘটনাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়। প্রকৃত পক্ষে সেখানে মুক্তাকে বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি এবং সরকারি কাজে বাধা দেবার অপরাধে মেয়ের চাচা জালাল উদ্দীনকে ৭ দিনের কারাদন্ড এবং বিয়ের আয়োজন করায় মেয়ের পিতা বিল্লাল হোসেনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাদেকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, বাল্য বিয়ের গোপন সংবাদ পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে মেয়ের পিতাকে ১ হাজার টাকা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টির কারণে দ-বিধির ১৮৬ ধারায় মেয়ের চাচা জালাল উদ্দীনকে ৭ দিনের জেল দেয়া হয়েছে। এ সময় ওই মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেয়া হবে না মর্মে অভিভাবকদের কাছে থেকে মুছলিকা নেয়া হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার ইউএনওর মাধমে মুক্তার বাল্য বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে বলে বর পক্ষকে তিনি জানিয়েছেন। বর যদি বিয়ে করতে আসে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার