মণিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে পিয়নের চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন হারুন !

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর ॥ প্রায় ৩৫ বছরে পা রেখে মণিরামপুর উপজেলার মাহমুদকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন কাম নৈশ প্রহরীর চাকুরি বাগিয়ে নিলেন একই গ্রামের আসতুল্ল্যাহ মোল্যার ছেলে হারুন-অর-রশীদ। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ১৮/০৭/১৯৮২। তবে চাকুরির আবেদনপত্রে ৮ম শ্রেণীর যে সনদ দেয়া হয়েছে সেখানে প্রকৃত বয়স গোপন করে দেখানো হয়েছে ১৯৮৭। সরকারি চাকুিরর ক্ষেত্রে বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বিধান থাকায় এই জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। বিষয়টি ফাঁসের পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলার ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন কাম প্রহরী পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ২২ জুন। জারীকৃত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ৬ জুলাই ২০১৭ তারিখে প্রার্থীকে ১৮ হতে সর্বোচ্চ ৩০ বয়স হতে হবে। এক্ষেত্রে মাহমুদকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী হারুন অর রশীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে যে জন্ম তারিখ রয়েছে সে অনুয়ায়ী তার বয়স ৩৪ বছর ৯ মাস ১৮ দিন। তিনি উপজেলা টেংরামারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১৯৯৬ সালে। এসএসসি পরীক্ষার বোর্ডের কাগজপত্রেও তার জন্ম তারিখ রয়েছে ১৮/০৭/১৯৮২ সাল। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদ জানান, ১৯৯৬ সালে আমার সাথে হারুন অর রশীদ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু অকৃতকার্য হওয়ায় পরের বছর একই স্কুল থেকে আবারও পরীক্ষা দেয়। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন কাম প্রহরী নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রচার হলে বয়স কমিয়ে অষ্টম শ্রেণী পাসের একটি সনদ সংগ্রহ করেন একই বিদ্যালয় থেকে। চাকুরি নেয়ার ক্ষেত্রে যে সনদ দেয়া হয়েছে সেটিতে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৮৭ সাল। এ ব্যাপারে টেংরামারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাষ চন্দ্র দাস অষ্টম শ্রেণীর পাসের সনদ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার এখান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় হারুন অংশ নিয়েছিলো তা আমার জানা ছিলো না। এদিকে সচেতন মহল বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র না দেখে স্কুলের সনদে কিভাবে নিয়োগ বোর্ড তার চাকুরি দিলেন তা বোধগম্য না। পারস্পরিক যোগসাজসে হারুন অর রশিদের চাকুরি দেয়া হয়েছে বলে অভিমত অনেকের। বিষয়টি জানতে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশীষ কুমার নন্দি’র ব্যক্তিগত ০১৭১৭৩৮৬৩১৫ মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝর্না রানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত নিয়োগ প্রাপ্ত হারুন অর রশীদকে যোগদান করানো হয়নি। তবে ভিন্ন কথা বললেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল অজিজ বিশ্বাস। তিনি বলেন, খবরটি ছাপানোর দরকার নেই, প্রার্থী আপনার সাথে যোগাযোগ করছে।
এদিকে, স্থানীয় একটি মহল বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার