কালিগঞ্জে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বীজতল ও ঘের তলিয়ে গেছে

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ কালিগঞ্জ উপজেলার নিম্মাঞ্চলে পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের বীজতলা, মাছের ঘেরসহ নিত্য প্রয়োজনীয় তরিতরকারীর ক্ষেত খামার পানির নীচে তলিয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরী করার মত জায়গা খুঁজে পাচ্ছে কৃষকরা। বিগত এক দশক ধরে এসব অঞ্চলের শতশত হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও মৎস্য ঘের অতি বর্ষার কারণে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্যার পানিতে বিনষ্ট হচ্ছে। এদিকে সেটেলমেন্টের মাপ জরিপে দেখাগেছে পানি নিষ্কাশনের সব নদী-খাল ঘুষখোর কর্মকর্তারা ভূমি দস্যুদের অনুকূলে রেকর্ড ও দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা প্রদান করেছে। এসব নদী বা খালে ক্রস বাঁধ দিয়ে বে-আইনিভাবে সাবলিজ হোল্ডাররা মাছ চাষ করছে। ফলে নিম্মাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে প্রবল বর্ষনের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খালসহ অসংখ্য নদী-খালে ক্রস বাঁধ দিয়ে ভূমি দস্যুরা পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের এডিসি রেভিনিউ ও উপজেলা প্রশাসনের এসিল্যান্ড এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকতারা এসব নদী-খাল বে-আইনিভাবে ইজারা দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন বলে ভূক্তভোগীরা জানান। সরেজমিন ঘুরে খোঁজ-খবর নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার নেঙ্গীর বিল, চাতরার বিল, গুল্লির বিল, চাচাই বিল, জয়পত্রকাঠি বিল, ভাড়াশিমলার বিল, খারহাট বিল, তারালী বিলসহ শতাধিক বিলে হাজার-হাজার কৃষকের ধান চাষে গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে পানি নিষ্কাশনের নদী ও খাল গুলি। এসব অঞ্চলের জমিতে চাষ করা রোপা আমন ধান এ বছরও বিনষ্ট হতে চলেছে। উল্লেখ্য দক্ষিণ জনপদের অবহেলিত স্লুইসগেট কানেক্টিং ভরাট হওয়া নদী ও খাল খননে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কোন বরাদ্দ কখনো চোখে পড়েনি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

শেয়ার