কালিগঞ্জে ভূমিহীনকে পেটালেন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তার সাগরেদরা !

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা ॥ সময় চাওয়ার অপরাধে ভুমিহীন আজিজ ভাঙ্গীকে অফিসে ফেলে নিজে ও ক্যাডার দিয়ে বেধড়ক পেটালেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহেদুজ্জামান। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নোটিশ দিয়ে তাকে অফিসে ডেকে এনে মারপিটের পর বেলা দেড়টায় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভূমিহীন পরিবারকে পিটিয়ে জমি দখল করেন। জমি দখলের সময় সন্ত্রাসী হামলায় ফাতেমা ও কোহিনুর নামে ২ মহিলা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী।
উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মাদকাটি গ্রামের শহর আলী ভাঙ্গীর পুত্র আব্দুল আজিজ ভাঙ্গী তার ভাই হবা ভাঙ্গী, বক্কার ভাঙ্গী, গফ্ফার ভাঙ্গী এবং তাদের পিতা শহর ভাঙ্গীসহ এলাকার চন্ডিচরণ, কনকসহ একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, মাদকাটি মৌজার ৬৫নং খতিয়ানের ১০ দাগের ১০ শতক জমি ভিপি ইজারা ৪৪/৮৭ নং কেসের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫০ বছরের অধিককাল হতে ভূমিহীন আব্দুল আজিজ ভাঙ্গী ইজারা নিয়ে পরিবার পরিজনসহ বসবাস করে আসছেন। ওই জমি মুড়োগাছা গ্রামের মৃত নকিম গাজীর পুত্র আব্দুর রহিমের সঙ্গে মাদকাটি গ্রামের মৃত কাওছার গাজীর পুত্র অন্য এক আজিজের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের আবুল কালামের পুত্র একাধিক সহিংস মামলার আসামি সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী তরিকুলের ইন্ধনে আব্দুল আজিজ গাজী উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান গত ৫ জুলাই সকাল ৯টার সময় কাগজপত্র স্বাক্ষ্য প্রমাণাদিসহ হাজির হওয়ার জন্য আজিজ ভাঙ্গী গং এর নিকট নোটিশ জারি করেন। নোটিশ মোতাবেক আব্দুল আজিজ ভাঙ্গী গং উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসে হাজির হয়ে তার ছেলে ওমর ফারুক গুরুত্বর অসুস্থ্য থাকায় মৌখিকভাবে দু’দিনের সময় প্রার্থনা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহেদুজ্জামান চেয়ার থেকে উঠে নিজে এবং ক্যাডার তরিকুল ও উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বেধড়ক পিটিয়ে সাদা কাগজে সহি নিয়ে জমি দখলের হুকুম দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের হুকুমে ঐদিন দুপুরে তরিকুলের নেতৃত্বে মুড়োগাছা গ্রামের আমজাদ, মাদকাটির সিরাজুল, দোজাহার, আব্দুল আজিজসহ ৫/৬ জন সন্ত্রাসী ভূমিহীন আজিজ ভাঙ্গীর জমি দখল করে নেয়। ঐসময় সন্ত্রাসীদের বাঁধা দিতে গেলে তার ভাই আব্দুল গফ্ফারের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন এবং কন্যা কোহিনুরকে পিটিয়ে আহত করে। বর্তমান আব্দুল আজিজের পরিবার উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে এলাকা এবং থানার আশে পাশে পাহারা থাকায় গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে ভূক্তভোগীরা সাংবাদিকদের জানান।
ঘটনার সত্যতা জানার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তবে কৃষকলীগ নেতা রাজ্জাক বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে লিখিত ভাবে সময়ের আবেদন করতে বললে সে অস্বীকার করায় একটি ঝামেলা হয়েছে। এদিকে উপজেলা পরিষদে প্রকাশ্যে মারপিট ও পরে জমি দখলের সময় সন্ত্রাসীদের হাতে দুই গৃহবধু আহত হলেও কিছুই জানেন না কালিগঞ্জ থানার ওসি লস্কর জায়াদুল হক। যোগাযোগ করা হলে ওসি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এ ব্যাপারে ভুমি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উপরিমহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে অভিমত সচেতন মহলের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান একজন ভুমিহীনকে পরিষদের অফিসে ফেলে পেটাতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। বিষয়টিতে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি। অন্যত্থায় পরিবারটিকে পথে পথে ঘুরতে হবে। সেই সাথে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে।

শেয়ার