মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মুদ্রাপাচারের সুযোগ নিয়ে সতর্ক করলেন গভর্নর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন মুদ্রাপাচারের একটি বড় প্রক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।
সোমবার ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি বলেছেন, “এই ডিজিটাল যুগে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয় যে মোবাইল মানি হতে পারে মানি লন্ডারিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রক্রিয়া।”
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকি কমাতে গবেষণার ওপর জোর দিয়ে গভর্নর বলেন, “এটি প্রতিরোধের জন্য আমাদের সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সম্পর্কিত ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই এ বিষয়ে গবেষণা করে তার প্রকৃতি খুঁজে বের করতে হবে।”
ঝুঁকি প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করার এ কাজে পাশাপাশি বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের সার্ক ফাইন্যান্স সেলের উদ্যোগে সোনারগাঁও হোটেলে ‘সার্কভুক্ত অঞ্চলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রভাব’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ সেমিনার হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান।
গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ২০টি কোম্পানির মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমতি রয়েছে, এর মধ্যে ১৮টি কোম্পানি সেবা দিচ্ছে। দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক আছেন প্রায় তিন কোটি ৯০ লাখ, যারা দিনে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন করেন।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই আর্থিক সেবা দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী সেমিনারের বিষয়বস্তুর ওপর ধারণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবার বিষয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং এর বিভিন্ন দিক উদঘাটন ও কীভাবে তা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে, আরও বেশি কীভাবে অবদান রাখতে পারে তা বিশ্লেষণ করতেই এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স অন্তঃপ্রবাহ কীভাবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের আওতায় আনা যায় তা নিয়েও সেমিনারে আলোচনা হয়।

শেয়ার