বাংলাদেশের জয়ে উজ্জ্বল সৌম্য

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বল হাতে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও দুর্দান্ত শুরু করলেন সৌম্য সরকার। মাহমুদউল্লাহর জোড়া ছক্কায় সহজ হলো রান-বলের টানাপোড়েন। সিডনিতে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে জিতল বাংলাদেশ।

নর্থ সিডনি ওভালে সিডনি সিক্সার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৯ রান তুলেছিল বিগ ব্যাশের দল সিক্সার্স। ইনিংস বিরতিতে বৃষ্টি এসে খানিকটা সহজ করে দেয় বাংলাদেশের লক্ষ্য। ৮ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৮৪ রান। বাংলাদেশ লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৮ বল বাকি থাকতে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাদশ নাম নিয়ে খেলা এই ম্যাচে খেলেননি খেলেননি তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। আর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে থাকা মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জস হেইজেলউডদের বাদ দিলে সিক্সার্স খেলিয়েছে তাদের মূল দলটিকেই। নেতৃত্ব দিয়েছেন ইয়োহান বোথা। দুই বিদেশি ক্রিকেটার জেসন রয় ও স্যাম বিলিংসের সঙ্গে খেলছেন ব্র্যাড হ্যাডিন, শন অ্যাবটরা।

রান তাড়ায় ইমরুল কায়েসের সঙ্গে বাংলাদেশের ইনিংস শুরু করেন সৌম্য। শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। সিক্সার্স অধিনায়ক ইয়োহান বোথার করা ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই আসে ১৭ রান!

সুইপ করে বোথাকে ছক্কা মারেন ইমরুল। সোজা ড্রাইভে বাউন্ডারির পর ওভারের শেষটাও সৌম্য করেন আরেকটি চারে। দ্বিতীয় ওভারে আরেক স্পিনার সৌমিল শিব্বারের বলে পুল করে সৌম্যর ছক্কা।

তবে মুত্তিয়া মুরালিধরনের মতো অ্যাকশনের এই অফ স্পিনার ওই ওভারেই বোল্ড করে দেন ইমরুলকে (১২)। পরের ওভারে সৌম্যকেও ফেরান তিনি। তিন চার ও এক ছক্কায় ৯ বলে ২০ করেছেন সৌম্য। মাঝে রায়ান কার্টার্স বোলিংয়ে এসেই ফেরান তিনে নামা সাব্বির রহমানকে (১)।

দ্রুত উইকেট হারিয়ে হঠাৎ করেই জমেছিল খানিকটা শঙ্কার মেঘ। ৪ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪১। তবে পঞ্চম ওভারেই শঙ্কা দূর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। কার্টার্সকে ছক্কা মারেন লং অন দিয়ে, আরেকটি ছয় কাট করে। ওই ওভারেই আসে ২১ রান!

শেষ দিকে সময়ের দাবি মেটান মুশফিকুর রহিমও। তাতে শেষ পর্যন্ত জয় ধরা দেয় অনায়াসেই। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৩ বলে ২৮ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ, ৮ বলে ১৫ রানে মুশফিক।

ম্যাচের প্রথম ভাগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিক্সার্সকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রয় ও ড্যান হিউজ। প্রথম ওভারে রান ছিল ৫। দ্বিতীয় ওভার থেকেই ঝড়ের শুরু। ক্রমে বাড়তে থাকে তীব্রতা।

তৃতীয় ওভারে শুভাশীষ রায়কে বিশাল ছক্কায় ওড়ান রয়। ইংলিশ ব্যাটসম্যান ওই ওভারে মারেন আরও দুটি চার। পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুতই রয়কে ছাড়িয়ে যান হিউজ।

পাওয়ার প্লের মধ্যে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে আক্রমণে এনেও লাভ হয়নি। ৬ ওভারে সিক্সার্স তুলে ফেলে ৬৪ রান!

বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের দেখা পায় এর পরই। বিপিএলে প্রথম ওভারে উইকেট নেওয়াকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলা মেহেদী হাসান মিরাজ এখানেও একই ভূমিকায়। বল হাতে নিয়েই ফেরান হিউজকে। ৩১ বলে ৪৭ রানে এলবিডব্লিউ হন হিউজ।

তিনে নেমে হ্যাডিন শুরু করেন ছক্কায়। তবে শেষও ওখানেই। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে ফেরান তাইজুল।

রয় অবশ্য ছিলেন আপন চেহারারেই। তাইজুলকে একটি ছক্কায় বল ফেলেন মাঠের বাইরে। একাদশ ওভারেই শতরান ছুঁয়ে ফেলে সিক্সার্স।

এরপর থেকেই বাংলাদেশের ফেরার শুরু। ২৩ বলে ৪২ রান করা রয়কে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ওই ওভারেই আরেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান স্যাম বিলিংসকে ফেরান তরুণ ফাস্ট বোলার। বাউন্ডারিতে ইমরুলের দারুণ এক ক্যাচে অধিনায়ক বোথার বিদায় ৫ রানে। সিক্সার্সের রান তখন ৫ উইকেটে ১১৫।
সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেন সিল্ক। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে ৩৫ করেন তিনি। শেষ দিকে ছক্কা আসে অ্যাবটের ব্যাট থেকেও।

ইনিংসের শেষ ওভারটি বোলিং করে ৩ উইকেট নেন সৌম্য। দুটি করে উইকেট নিলেও তাইজুল ও তাসকিন ছিলেন খরুচে।

সিক্সার্সের রানটা চ্যালেঞ্জিংই ছিল। সেই সমীকরণ বদলে যায় বৃষ্টিতে। বাংলাদেশ পরে ভিজল স্বস্তির বৃষ্টিতে। জয়ে মিশন শুরুর স্বস্তি।

শেয়ার