হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালের পৃষ্ঠপোষকতায় ফুটবল টুর্নামেন্ট

ইমরান হোসেন পিংকু:  পুরো ম্যাচে দুই দল অন্তত ১১ বার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘হাফ চান্স’। কিন্তু নির্ধারিত ৮০ মিনিটে এতোগুলো সুযোগের একটিকেও গোলে পরিণত করতে পারেনি কোন দল। তাই শেষতক ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। যেখানে যশোর পৌরসভা ৫-৪ গোলে বসুন্দিয়া ইউনিয়নকে পরাজিত করে। আর এই জয়ে যশোর সদর আন্ত:ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রথম দল হিসেবে পৌরসভা সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে যশোর পৌরসভার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সহজতম একটি সুযোগ আসে ম্যাচের  দুই মিনিটের মাথায়। এসময় ফরোয়ার্ড আশরাফ ডি-বক্সের মধ্যে বল পেয়ে যান। তবে তার ডান পায়ের জোরালো কিক গোলপোস্টের পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৩৩ মিনিটে আরো একবার সহজ সুযোগ পায় পৌরসভা। মধ্যমাঠের খেলোয়াড় সরোয়ার ডি-বক্সের মধ্যে থাকা ছোট বাবুর উদ্দেশ্যে উচু করে বল বাড়িয়ে দেন। তবে দলের খেলোয়াড় ছোটবাবুর নেওয়া হেডটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর আগে ম্যাচের ৯ মিনিটে বসুন্দিয়া কর্ণার পেলে তাদের সমর্থকরা নড়েচড়ে বসেন। তবে কর্ণারকে তারা কাজে লাগাতে পারেনি। গোল করার মতো এমন অসংখ্য সুযোগ পেয়েছে দুই দল। সংঘবদ্ধ আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। দেখা গেছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তবে কোন দল কাক্সিক্ষত সেই গোলের দেখা পাইনি। তবে এসময় রেফারি পাঁচ পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখান। প্রথমার্ধের খেলা এভাবেই গোল শুন্যভাবে শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অনেকটা এলোমেলো খেলা চলে। এমন পরিস্থিতিতে ৫৭ মিনিটে ম্যাচের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি ঘটে। এ সময় দুই দলের একাধিক খেলোয়াড় মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। বসুন্দিয়ার নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় সেগুকে অবৈধভাবে বাধা দেন পৌরসভার আশরাফ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেগু আশরাফের দিকে তেড়ে যান। তখন দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এমন দৃশ্য দেখে বেশ খানিকটা দূর থেকে ছুটে মাঠের বাইরের চেয়ার এনে পৌরসভার অধিনায়ক বর্ডার সেগুকে মারতে যান। এমন পরিস্থিতিতে রেফারি তিনজনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। বসুন্দিয়া ১০ আর পৌরসভা পরিণত হয় ৯ জনের দলে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পৌরসভার গোলরক্ষক খোকন একটি নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে দলকে বাঁচিয়ে দেন। এসময় বসুন্দিয়ার কৌশিক দেবনাথ ডি-বক্সের মধ্য থেকে গোলমুখে জোরালো কিক নেন। তবে সুনিপুণ দক্ষতায় কর্ণারের বিনিময়ে নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক খোকন। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালটি টাইব্রেকারে গড়ায়। যেখানে পৌরসভা পাঁচটি গোল দিতে সক্ষম হলেও বসুন্দিয়ার সাইবেরিয়ান খেলোয়াড় উলুম্বের নেওয়া শর্টটি ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ফলে পৌরসভা জিতে যায় ৫-৪ গোলে।
খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন পৌরসভার খোকা বাবু। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মনি চাকলাদার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এএসএম আসিফ-উদ-দৌলা সরদার অলক, কোষাধ্যক্ষ মইনুল আলম টুলু, যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাহার হোসেন স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মুস্তাক, শফিকুল ইসলাম জুয়েল, এহসানুর রহমান লিটু, মোদাসের, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ প্রমুখ।
আজ একই মাঠে দুপুর দুইটায় দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ইছালীর মুখোমুখি হবে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন।

শেয়ার