যশোরের শুড়া গ্রামের সরবিন্দু হত্যা ৭ জনকে অভিযুক্ত করে মামলায় চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদর উপজেলার শুড়া গ্রামের সরবিন্দু মজুমদার হত্যা মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ৭ জনকে অভিযুক্ত করে এসআই ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শরিফুল ইসলাম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযুক্তরা হলো, যশোর শহরের নাজির শংকরপুরের মগরেব আলীর ছেলে মিজানুর রহমান মিজু ওরফে টেরা মিজু, বেজপাড়া আকবরের মোড়ের শাহজানের বাড়ির ভাড়াটিয়া হাসান আলী শেখের ছেলে নিপু ওরফে সোহেল হাসান নিপু, চাচঁড়া এলাকার জলিল মুন্সির বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত বেলায়েত হোসেনর ছেলে প্রিন্স, রায়পাড়া কয়লাপট্টির আব্দুল করিমের ছেলে সবুজ, ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে সজল, সদর উপজেলার শুড়া গ্রামের সুব্রত বিশ্বাসের ছেলে মিহির বিশ্বাস এবং কুতুবপুর গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে বাবুল হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, প্রতিদিন বিকেলে সরবিন্দু মজুমদার শুড়া বাজারে যেতেন এবং রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বাড়ি ফিরতেন। প্রতিদিনের ন্যায় ২০১৩ সালের ৭ মার্চ বিকেলে সরবিন্দু বাজারে যান। রাতে বাড়ি ফেরার পথে মন্টু মজুমদারের বাড়ির সামনে পৌছালে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা পিছন থেকে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আসামিরা সরবিন্দু রাস্তার পড়ে গেলে কুপিয়ে জখম করে কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
এ ব্যাপারে নিহতের পিতা সরজিৎ মজুমদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, সরবিন্দু মজুমদার বাজারে মিহির বিশ্বাস ও মিল্টনের সাথে চলাফেরা করতেন। ঘটনার কয়েক মাস আগে তাস খেলা নিয়ে মিহিরের সাথে সরবিন্দুর গোলযোগ হয়।
আবার কিছু দিন পর মিহিরকে নারিকেল চুরি করে খেতে দেখে সরবিন্দু। কিন্তু নারিকেল চুরির বিষয়টি গ্রামের জানাজানি হলে সে সরবিন্দুকে দোষারোপ করে। এরপর মিহির তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মিহির আসামিদের ভাড়া করে নিয়ে সরবিন্দুকে কুপিয়ে হত্যা করে। আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই ৭ জনের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

শেয়ার