সাতক্ষীরার আলোচিত নারী লোভী ওহাবের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা v

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা ॥ এক গৃহবধুকে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার দুই স্কুল পড়–য়া মেয়েকে ভারতে পাচারের অভিযোগে বহুল আলোচিত ভূমিদস্যু ওহাব আলী পেয়াদাসহ দু’ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আশাশুনি উপজেলার কামালকাটি গ্রামের যতীন্দ্রনাথ গাইনের ছেলে ভবেন গাইন বৃহষ্পতিবার সাতক্ষীরার মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। ভারপ্রাপ্ত বিচারক সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ আমিরুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ঝায়ামারি গ্রামের তালেব পেয়াদার ছেলে ওহাব আলী পেয়াদা ও আশাশুনি উপজেলার কামালকাটি গ্রামের ভবেন গাইনের স্ত্রী জ্যোস্না গাইন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০/১১ সালে ভূমিহীন আন্দোলনের সময় ভবেন গাইন পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে কালীগঞ্জের ঝায়ামারি গ্রামের ওহাব আলী পেয়াদার। ওহাব আলী পেয়াদা ভবেন গাইনের স্ত্রীকে মেয়ে সম্বোধন করতো। তাদের দু’ স্কুল পড়–য়া মেয়েকে নাতনি বলে সম্বোধন করতো। ওই সময় পুলিশ সুপারের উপর হামলা, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাই ও অস্ত্রসহ কমপক্ষে একডজন মামলার আসামি ছিল ভুমিদস্যু ওহাব আলী। যেকারণে বছরের বেশ কিছু সময় ভবেন গাইনের বাড়িতে সময় কাটাতো ওহাব। একপর্যায়ে কামালকাটি গ্রামে ওহাব আলী মাছের ঘের করে ভবেন গাইনকে দেখাশুনার দায়িত্ব দেয়। এই সুযোগে ওহাব আলী পেয়াদা ভবেন গাইনের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয় আঁচ করতে পেরে ভবেন গাইন ও তার দুই মেয়ে বাধা দেয় কিন্তু ভুমিদস্যু ওহাব তাদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ভবেন গাইন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ছনকা গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে চলে আসে। সেখানে দু’ মেয়েকে ভর্তি করে দেন এবং স্ত্রীর দিকে নজর রাখার দায়িত্ব শ্বশুরবাড়ি পরিবারের ওপর ছেড়ে দেন। মামলার বিবরণে আরো জানা যায়, ওহাব আলী পেয়াদা জ্যোস্না গাইনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রাখার জন্য ছনকা এলাকায় মাছের ঘেরগড়ে তোলে। গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গেলে জ্যোস্না ও তার দু’ মেয়েকে কামালকাটি গ্রামে নিয়ে যায় ওহাব আলী। ৯ সেপ্টেম্বর সকালে নতুন জামা কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে জ্যোস্না ও তার মেয়েকে ওহাব আলীর সাতক্ষীরার ভাড়া বাসায় নিয়ে আসা হয়। দু’ জনের অনৈতিক জীবনযাপনের সুবিধার্থে যোগসাজস করে ভবেনের দু’ মেয়েকে ভারতে পাচার করে ওহাব আলী। একপর্যায়ে মেয়েদের খোঁজ না পেয়ে সাতক্ষীরার ভাড়া বাসায় এলে জ্যোস্নার সঙ্গে কোন সম্পর্ক না রাখার কথা বলে ওহাব আলী তাড়িয়ে দেয় ভবেনকে। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ভারতের মেদিনিপুরের গড়বেতা গ্রাম থেকে স্থানীয় একটি ক্লাবের সভাপতি দেবব্রত বসুর সহায়তায় পাচার হওয়া ওই দু’ স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। মামলা করলে ফল ভাল হবে না বলে ভবেন গাইনকে বারবার জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন ওহাব পেয়াদা। মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে পাঠানোসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকির কথা উল্লেখ করে ভবেন গাইন গত ২৬ নভেম্বর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

শেয়ার