যশোরে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শিগগির চালু হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার

dsc_4936নিজস্ব প্রতিবেদক॥ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আর পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় চলে যাবে। ইতোমধ্যে আমরা খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছি। আমাদের জনসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে। এখন আমাদের সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। আমাদের লক্ষ্য উৎপাদন থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এজন্য সরকারের ৪৮০টি বিভাগ এক সাথে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার চালু করা হবে।’
খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে যশোরে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় অংশ নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ দারা, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্য, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্যের সাথে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত। সেই স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২০১৩ সালে নতুন আইন করেছে। সেই আইনের আওতায় ১৬টি মন্ত্রণালয়সহ ৪৮০টি সংস্থা এক সাথে কাজ করছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে কর্মশালা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ নামক স্বাধীন দেশের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে আজ বাংলাদেশ উনতৃনশীল দেশের কাছে মডেলে পরিণত  হয়েছে।’ কর্মশালা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ টাকা দরে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। যা বছরে পাঁচ মাস চলবে। এই কর্মসূচিতে কোন ধরনের অনিয়ম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যারা অনিয়ম করবে কোন দলের তা না দেখেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১৩০ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। অনিয়মের কারণে দুই লাখ ১৮ হাজার ৮৬২টি কার্ড বাতিল বা সংশোধন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী মার্চে এই কর্মসূচি আবার শুরুর আগে একটি ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ হবে। এটা করা সম্ভব হলে সব অনিয়ম বন্ধ হয়ে যাবে।’
এর আগে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাবিনা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পারভেজ হাসান ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারাসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। র‌্যালিটি জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে শুরু হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।

শেয়ার