বাগেরহাট সুপারি পট্ট্রি ও বাসাবাটি থেকে দুটি লাশ উদ্ধার, ইত্যার অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ বাগেরহাট শহরের সায়েম কাজীর বাড়ির সামনের পুরাতন সুপারী পট্টির গলি থেকে মামুন পালোয়ান(৩২) ও বাসাবাটি বাইনে পাড়া থেকে তপন কুমার শীল নামের দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাগেরহাট শহরের বাজার মেইন রোড থেকে প্রায় একশত ফুট দুরে অন্ধকারাছন্ন ওই গলিতে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মামুন পালোয়ান (৩২) এর লাশ পাওয়া যায়। সে রেলস্টেশন এলাকার ধলু পালোয়ানের ছেলে। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করেছে।
মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে মাছ বিক্রেতা মামুন পালোয়ান প্রায়ই বাজারের লোকদের মারপিট করত। মামুন মাদক সেবনকারী হিসেবেও বেশ পরিচিত থাকায় ভয়ে বাজারের অন্য দোকানিরা তাকে এড়িয়ে চলতো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামুন পালোয়ান মাছ বাজারের  চিংড়ি  ব্যবসায়ী ফারুকের নিটক ২০ টাকা দাবী করে না পেয়ে তাকে বেদম মারপিট করে  । এঘটনার পর সন্ধ্যায় মাছ বাজারের সকল ব্যবসায়ীরা মাছের দোকান বন্ধ করে দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ফারুকসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমানের কাছে বিচার দিতে পৌর সভায় জড়ো হয়। তবে মেয়রকে পৌরসভায় না পেয়ে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করতে থাকে। এ অবস্থার মধ্যে রাত পৌনে ৮ টার দিকে সুপারী পট্টির অন্ধাকার গতিতে রাস্তার পাশে একটি টিনশেড ঘরের জানালার সাথে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় মামুনের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। নিহতের গায়ে থাকা কালো জ্যাকেটের চিকন রশিতেই ঝুলছিল মামুন। স্থানীয় লোকজন জানায় তাকে কেউ মেরে লাশ জানালার সাথে ঝুলিয়ে রাখতে পারে। তবে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ঘটনাকে আতœহত্যা বলে ধারনা করছে।
অপরদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের বাসাবাটি এলাকার বাইনে পাড়ার বাসিন্দা তপন শীলকে মারপিট করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী আখি শীল। বৃহস্পতিবার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মামলার আসামীরা জামিন পেয়ে তাকে পরিকল্পিত ভাবে দোকান থেকে ধরে নিয়ে মারপিট করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করেছে বলে তপনের পরিবার দাবী করেছে। নিহত তপনের স্ত্রী আখি শীল জানায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনি ভায়রা হৃদয়ের নামে আদালতে কয়েক মাস আগে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় হৃদয়সহ তার লোকজন আটক হয়ে কয়েকদিন আগে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়। বৃহস্পতিবার ওই মামলার আসামীরাই তপনকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে কীটনাশক ঢেলে সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারনা চালায়। নিহত তপন শীল বাসাবাটি বাইনে পাড়া এলাকার মৃত রনজিৎ শীলের জামাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, দুটি মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর এ বিষয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে পৃথক এ দুটি ঘটনায় শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।

শেয়ার